আজ বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০ ইং

Advertise

ফরহাদ মজহারের পরাজয় দিবস!

ইমতিয়াজ মাহমুদ  

ফরহাদ মজহার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ছেলেমেয়েদেরকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। ফেসবুকে স্ট্যাটাস শুরু করেছেন "আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে পরাজিত হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের দিন। লেফটানান্ট জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের চুক্তিতে স্বাক্ষর করছেন... " ইত্যাদি। এই কথাটা মিথ্যা কথা। আপনারা কেউ যদি ফরহাদ মজহারের সাথে কোনভাবে যুক্ত থাকেন তাঁকে বলে দিতে পারেন, ইমতিয়াজ মাহমুদ নামক একজন সাধারণ উকিল তাঁকে যথাযথ সম্মানপূর্বক সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে মিথ্যাচারী বলেছে।

ফরহাদ মজহারের স্ট্যাটাসের অন্যান্য বক্তব্য ভুল কি সঠিক সেগুলি আলোচনা পরে করেন। আপনারা সারেন্ডারের দলিলটা খুলে দেখে নেন সেখানে কে কে স্বাক্ষর করেছিলেন। দলিলের স্বাক্ষরের জায়গায় বাম দিকে স্বাক্ষর করেছেন জগজিৎ সিং অরোরা, লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি কি ক্ষমতাবলে স্বাক্ষর করলেন? সেটাও নীচে লেখা আছে, "General Officer Commanding in Chief, India and Bangladesh Forces in the Eastern Theatre"।

জেনেরাল অরোরা বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর হয়ে স্বাক্ষর করেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর হয়ে নয়। আর কে স্বাক্ষর করেছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হচ্ছে যে আত্মসমর্পণের দলিলে কি লেখা আছে। সেখানেও লেখা আছে যে নিয়াজি আর ওঁর বাহিনী সারেন্ডার করছে বাংলাদেশ-ভরত যৌথ বাহিনীর কাছে।

ফরহাদ মজহার কি বললেন কি লিখলেন সেটাকে আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে করিনা। আমি সেগুলি অনুসরণও করি না। আসিফ মহিউদ্দিনের স্ট্যাটাসে এই বিষয়টার উল্লেখ দেখে কৌতূহলবশে গিয়েছিলাম ফরহাদ মজহারের ফেসবুকে। গিয়ে দেখি এই মিথ্যাচার।

তিনি কি অজ্ঞতাবশত বা অসাবধানে ভুল লিখে ফেলেছেন? না। সেই সম্ভাবনা নাই। কারণ এই পর্যায়ের ধাড়ি পণ্ডিত তথ্যে ভুল করার কথা না। আর পোস্টটা পরেই দেখা যায় মজহার সাহেব উইকিপিডিয়া ইত্যাদি ঘাটাঘাটি করে তারপরেই গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ছবি আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কার প্রক্রিয়ার জেনারেল অরোরা কি পদমর্যাদায় স্বাক্ষর করলেন সেটা তো না দেখার কথা না আরকি।



দেখেন, আমরা সকলেই জানি যে ১৯৭১ সনে ডিসেম্বরের শুরুতেই ভারত বাংলাদেশকে অফিসিয়ালি স্বীকৃতি দেয়। আর মিত্র বাহিনী ছিল বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী আর ভারতের সামরিক বাহিনীর মিলিত বাহিনী। এইরকম যৌথ কমান্ডে পরিচালিত বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের কমান্ডাররা থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। সেসময় ভারতীয় বাহিনী ছিল আকৃতিতে বড়, শক্তিতে বড় আর আমাদের নিয়মিত সামরিক বাহিনী মাত্র গঠিত হয়েছে হাতে গোনা কিছু মাত্র অফিসার। স্বাভাবিক নিয়মেই শীর্ষ কমান্ডার একজন ভারতীয় জেনারেলই হবে।

কিন্তু এইগুলি তো তুচ্ছ উপলক্ষ মাত্র। আজকে যখন আমরা বিজয় দিবস পালন করছি, তখন কেউ না কেউ তো পরাজয় দিবস হিসেবে মাতমও করবে। আপনি বাঙ্গালী, আপনি জিতেছেন- আরেক পক্ষ তো হেরেছে, নাকি? প্রতিটা বিজয়েই তো একটা পরাজিত পক্ষ থাকে। ওদের জন্য তো আর দিনটা আর আনন্দের দিন হবে না। সেরকম কেউ যদি বাংলায় বাস করে আপনি কি করে প্রত্যাশা করেন যে তিনিও ১৬ই ডিসেম্বরে আপনার সাথে আনন্দে উদ্বেল হবে? হবে না।

ওরা শোক করবে। আর সেই সাথে ছলও করবে। ওরা নানাভাবে আপনাকে বুঝাতে চাইবে যে না, এই বিজয় বিজয় না, আর বিজয় হলেও এই বিজয় তোমার না এইরকম নানারকম ছুতানাতা। কেউ কেউ হয়তো বলবে, না আসলে তো পাকিস্তান আর্মি হারেনাই, এমনিই ভুল করে সারেন্ডার করে ফেলেছে। এমন কাউকেও পেতে পারেন যে কিনা বলবে, না, নিয়াজি ইন্ডিয়ার কাছে টাকা খেয়ে সারেন্ডার করে ফেলেছিল। এইরকম কত কি।

ও ভাই, জিয়াউর রহমান নামক ধূর্ত ধেড়েটার সময় থেকে এইসব বাৎচিত বহুত শুনেছি।


এদের জন্যে মায়াও লাগে। বোকাগুলি বাঙ্গালী হয়েও বাঙ্গালীর গৌরবে গৌরব করতে পারে না। ওদের দেলে পাকিস্তানের জন্য এত মহব্বত?

আরে বেওকুফ, ১৯৭১ সনের মার্চ মাসে রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের জন্ম। এর পরের নয়মাসের যুদ্ধ বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ। শেষ দিকে আমরা যখন পাকিস্তান বাহিনীকে মারতে মারতে দেশের সবখান থেকে তাড়িয়ে ঢাকা আর ঢাকার বাইরে কয়েকটা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে কনফাইন্ড করে ফেলেছি, তখন ডেসপারেট পাকিস্তান পশ্চিম ফ্রন্টে ভারতের উপরও হামলা করে। তখন গিয়ে বাংলাদেশ ভারত যৌথ বাহিনী হয়।

আমাদের কাছে পাকিস্তান বাহিনী হেরেছে এই কথা বলতে পাকিস্তানীদের শরম লাগে, সে আমরা বুঝতে পারি। ফরহাদ মজহারের শরম লাগে কেন? সেটা বুঝাও সেরকম জটিল কিছু না।


মূর্খ এবং মিথ্যাবাদী এই দুইজনের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। এরা মানুষকে বোকা মনে করে আর নিজেকে মনে করে চালাক। ধাড়ি শেয়াল মনে করে ঘাড়ের দিকে খানিকটা কেশ ঝুলিয়ে দিলেই লোকে ওকে সিংহ মনে করবে। মুখ খুললেই যে হুক্কা হুয়া আওয়াজ বের হবে সেই কথা মনে থাকেনা।

ইমতিয়াজ মাহমুদ, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ইমেইল: mahmood.imtiaz@gmail.com

মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

আপনার মন্তব্য

লেখক তালিকা অঞ্জন আচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী অসীম চক্রবর্তী আজম খান ১০ আজমিনা আফরিন তোড়া ১০ আফসানা বেগম আবু এম ইউসুফ আবু সাঈদ আহমেদ আব্দুল করিম কিম ২৯ আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল আমিনা আইরিন আরশাদ খান আরিফ জেবতিক ১৫ আরিফ রহমান ১৬ আরিফুর রহমান আলমগীর নিষাদ আলমগীর শাহরিয়ার ৪৯ আশরাফ মাহমুদ আশিক শাওন ইনাম আহমদ চৌধুরী ইমতিয়াজ মাহমুদ ৬০ ইয়ামেন এম হক এখলাসুর রহমান ২৪ এনামুল হক এনাম ৩০ এমদাদুল হক তুহিন ১৯ এস এম নাদিম মাহমুদ ২৭ ওমর ফারুক লুক্স কবির য়াহমদ ৩৫ কাজল দাস ১০ কাজী মাহবুব হাসান খুরশীদ শাম্মী ১৪ গোঁসাই পাহ্‌লভী ১৪ চিররঞ্জন সরকার ৩৫ জফির সেতু জহিরুল হক বাপি ২৮ জহিরুল হক মজুমদার জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জান্নাতুল মাওয়া জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল রাজ ৭৭ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ১২ ড. কাবেরী গায়েন ২২ ড. শাখাওয়াৎ নয়ন ডা. আতিকুজ্জামান ফিলিপ ডা. সাঈদ এনাম ডোরা প্রেন্টিস তপু সৌমেন তসলিমা নাসরিন তানবীরা তালুকদার দিব্যেন্দু দ্বীপ দেব দুলাল গুহ দেব প্রসাদ দেবু দেবজ্যোতি দেবু ২৭ নিখিল নীল পাপলু বাঙ্গালী পুলক ঘটক ফকির ইলিয়াস ২৪ ফজলুল বারী ৬২ ফড়িং ক্যামেলিয়া ফরিদ আহমেদ ৩৪ ফারজানা কবীর খান স্নিগ্ধা বদরুল আলম বন্যা আহমেদ বিজন সরকার বিপ্লব কর্মকার ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ১৮ ভায়লেট হালদার মারজিয়া প্রভা মাসকাওয়াথ আহসান ১৫৫ মাসুদ পারভেজ মাহমুদুল হক মুন্সী মিলন ফারাবী মুনীর উদ্দীন শামীম ১০ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ১৩৭ মো. মাহমুদুর রহমান মো. সাখাওয়াত হোসেন মোছাদ্দিক উজ্জ্বল মোনাজ হক ১৩ রণেশ মৈত্র ১৮০ রতন কুমার সমাদ্দার রহিম আব্দুর রহিম ৩২ রাজেশ পাল ২৪ রুমী আহমেদ রেজা ঘটক ৩৪ লীনা পারভীন শওগাত আলী সাগর শাখাওয়াত লিটন শামান সাত্ত্বিক শামীম আহমেদ শামীম সাঈদ শারমিন শামস্ ১৪ শাশ্বতী বিপ্লব শিতাংশু গুহ শিবলী নোমান শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ ২৪ শেখ মো. নাজমুল হাসান ২১ শেখ হাসিনা শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী সঙ্গীতা ইমাম

ফেসবুক পেইজ