টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Advertise
হাসিদা মুন | ১২ এপ্রিল, ২০১৬
সব কথার প্রথম কথা হলো <মানুষ> সৃজন বাসনার উদ্ভূত প্রথম কল্পনা ... মানুষ!
এই মানুষ যখন সব কথার প্রথম কথা সেই মানুষের এক অতি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ‘মন’।
একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তির ব্যক্তিগত রসদ তাঁর মন ...
সক্ষম সচেতন বুদ্ধিজীবী ক্ষমতার অভিজ্ঞতায় চেতনা এবং চিন্তার অনুষদ হচ্ছে মন’। কোন চিন্তা মানুষের মন মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থাপিত হতে থেকে, পরে একক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।
মানুষের মনের প্রক্রিয়া দুই প্রকারের- সচেতন এবং অবচেতন মানসিক প্রক্রিয়া বা কার্যক্রম মানুষের প্রকাশ্য মূর্ত ও বিমূর্ত অধ্যায়ের সমষ্টি হচ্ছে এই মন। মানুষ ও তাঁর মন এক নয়, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ মন না চাইলেও বাইরে অন্য কাজ সুচারু রূপেই করে যায়, যা বাইরে থেকে বুঝে নেয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে, আবার দেহ একখানে পড়ে থাকে মন সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াতে সক্ষম।
আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং ইচ্ছা অনুযায়ী কোন কার্যকারণে মোকাবেলা করতে পারি, যাতে আমাদের চারপাশ কি ঘটে যাচ্ছে যখন চিন্তা করা হয়, চিন্তা গঠনের ধারণা, সমস্যা সমাধান, যুক্তি এবং পছন্দ মত, তথ্য ব্যবহার করে জমিয়ে রাখতে পারি আমাদের মনের কোষাগারে।
এক্ষেত্রে মন তথ্য সংরক্ষণ, এবং পরে তা গ্রহণ কিংবা প্রত্যাহার করতে পারে যখন সেসব স্মৃতির উদ্রেক হয়।
কল্পনা সম্পূর্ণ বা অসম্পূর্ণভাবে যা হচ্ছে, মনের ভিতর উদ্ভাবিত হবার ক্ষমতা আছে যে সমস্ত বিষয় গুলোকে বিশ্বের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে মনের মাঝে সুস্পষ্ট অঙ্কন করে তোলে। ক্ষেত্র বিশেষে তা বের করে এনে কাজে লাগাতে পারা যায় বিশেষ প্রয়োজনে।
চেতনাপূর্ণ মন বুদ্ধিমত্তায় বিদ্যমান এবং আমাদের চারপাশের কি ঘটে তা বুঝে নিতে সে সক্ষম।
মনের মাঝে কোন পরিচিতি যুক্তিপূর্ণ না হলে হৃদয়গ্রাহী হয়না, তথ্য ও তত্ত্বমালা কিভাবে উপলব্ধিগত হবে তা বিবেচনা করে নেয় মন বিশিষ্ট শিক্ষণের ফলে, কাজেই বোঝা যায় মন এক দর্পণ তাতে দেখায় সম্পূর্ণ এক দর্শন। মানুষের মনের মাঝে মনুষ্যত্ব নিশানি অপরূপ এক অবস্থা আছে যার সাথে অতীন্দ্রিয় দর্শন ও শ্রবণশক্তি বর্তমান থাকে।
নিজেকে চিনিবো, বলে নিজের দিকে তাকালে দেখা যায় এই স্থূল সৃষ্টি হলো সৃষ্টির কিয়দংশ এতেই জানাজানির জ্ঞান পিপাসা মিটে না আরো ভালো করে জানতে হবে আরো চিন্তা করতে হবে আরো অগ্রসর হতে হবে তা কিন্তু দেহ দিয়ে সম্ভব নয়, সম্ভব মন মাধ্যমে দীর্ঘপথ নিমিষেই নিকটবর্তী করে দেয় আমাদের মন।
মানুষের মন জড়- অজড়, স্থূল –সূক্ষ্ম এই সমস্ত গণ্ডী পেরিয়ে ইন্দ্রিয়াতীত জগতে পৌঁছাতে সক্ষম। ইন্দ্রিয়াতীত জগতে বহু সত্য বর্তমান যা ধ্বংসী নয়। স্থান ও কালের সীমানা অতিক্রান্ত করে থিওজফীর যে জ্যোতির্ময় জগত, সেখানে দেহ প্রবেশে অক্ষম কিন্তু মানসদেহ বিচরণে সক্ষম হয়ে স্থান কাল কে জয় করতে পারে। অনেকে আবার মন এবং আত্মা’ একই অর্থে ব্যবহার করে থাকে।
সাধারণ নিয়ম হিসাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে বাহন এর দরকার হয় এই মানসদেহ কোন কিছুর সাহায্য ছাড়াই জড় দেহকে ফেলে রেখে জ্যোতিরদেহে ভ্রমণ করতে পারে, Cosmos থেকে যেমন Cosmic Radiation আসতে সক্ষম, মানুষের দেহ থেকে তেমন মানসদেহ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোণে কোণে পৌঁছাতে সক্ষম। সৃষ্টিবস্তু সব সসীম আর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের অন্তর্গত হলেও মানসিক অবস্থা বা মন’ এ সবের ঊর্ধ্বে।
মানুষ থেকে মনের দাম বেশী- তবে সে মন যেনো হয়- প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি ‘উৎসর্গ করা মন’; যেমন আমি একটা মসজিদ তৈরি করলাম, এখানে আমার চাইতে মসজিদের মূল্য বেশী মনে হলো সমাজের সবার কাছে, কারণ সেটা উৎসর্গকৃত এবং সেখানে একক স্বার্থপরতা এখানে নেই।
এমনভাবে সকল জীব, মানুষ, প্রকৃতির প্রতি উদার এবং উৎসর্গকৃত মন হচ্ছে মহামূল্যবান!
মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। sylhettoday24.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে sylhettoday24.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।
আপনার মন্তব্য