সিলেটটুডে ডেস্ক

১৯ মে, ২০২৪ ০২:২৩

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: কিরগিজস্তানে নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশিরা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানে পড়ালেখা করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানি শিক্ষার্থীরা। দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় তিনজন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।

সেখানে বিদেশি শিক্ষার্থী দেখলেই স্থানীয়রা হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন দেশটিতে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভারতীয় ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের সর্তকভাবে চলাফেরার নির্দেশ দিয়েছে দেশ দুটির দূতাবাস। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে তাদের জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কিরগিজস্তানে পড়তে যাওয়া একাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, গত ১৩ মে কিরগিস্তানের রাজধানী বিশকেক শহরে স্থানীয় ২/৩ জন বাসিন্দাদের সঙ্গে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত মিশরীয় কয়েকজন নাগরিকদের সংঘর্ষ হয়। এরপর গত ১৬ মে রাত থেকে বিশকেক শহরে থাকা সকল বিদেশিদের ওপর হামলা শুরু করে স্থানীয়রা। সেখানে থাকা পাকিস্তানি, বাংলাদেশি এবং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর একাধারে আক্রমণ চালাচ্ছে। পুরো শহরজুড়ে যে সকল বসতবাড়িতে বিদেশিরা থাকে, সেখানে তাদের খুঁজে বের করে বাসায় ভাঙচুর চালানোসহ নারী পুরুষ নির্বিচারে মারধর করা হচ্ছে। এমনকি মেডিকেল কলেজগুলোর হোস্টেলে তারা ঢুকে পড়েছে। শহরজুড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ।

রয়েল মেট্রোপলিটন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সৈয়দ রাকিবুল ইসলাম বলেন, দেশটিতে প্রচুর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রুমের বাইরে নিষেধ করেছে। হঠাৎ করেই সহিংসতা শুরু হয়েছে। ফলে সবাই যে নিজ নিজ রুমে ফেরত আসতে পেরেছে বিষয়টি এমন নয়। যে যেখানে পেরেছে, আত্মগোপন করেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আমি দেশে ফেরত যেতে চাই, আমাকে উদ্ধার করেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে যোগযোগ করা হয়েছিল কি না- উত্তরে তিনি বলেন, এ দেশে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। যার কারণে আমরা বাংলাদেশিরা কোনো সহায়তা পাই না। দুই দিন পার হয়ে গেলেও কোনো সহায়তা বা কোনো বার্তা আমাদের দেওয়া হয়নি। আমি নিজে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি।

কিরগিজস্তানে বাংলাদেশের কোনো আবাসিক দূতাবাস নেই। উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাস কিরগিজস্তানে অনাবাসী দূতাবাসের দায়িত্ব পালন করে।

কিরগিজস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। কিরগিজস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া কোনো বাংলাদেশির আহত বা নিহত হওয়ার কোনো তথ্য এখনও নেই। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাসা থেকে না বের হতে। তবে একটি আতঙ্ক রয়েছে- আবারও সহিংসতা হয় কি না। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

কোনো সতর্ক বার্তা দূতাবাসের ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজে দিয়েছে কি না– উত্তরে তিনি বলেন, কোনো সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়নি।

দূতাবাস কোনো হট লাইন চালু করেছে কি না– উত্তরে ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, না কোনো হট লাইন চালু করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা সরাসরি ফোন করছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছে কি না, যাতে কোনো জরুরি বার্তা একত্রে সকল শিক্ষার্থীকে দেওয়া যায়? উত্তরে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে কিরগিজ ও মিশরীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণ্ডগোল হয়। সেই ঘটনার ভিডিও গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত