নাদির আহমেদ, শাবিপ্রবি

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২১:২০

প্রিয়জনের চিঠি আর আসে না শাবিপ্রবির ডাকবাক্সে

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। একসময় পোস্ট অফিসের লাল রঙের ডাকবাক্সে জমত অগণিত চিঠি। প্রিয়জনের হাতের লেখা পাওয়া ছিল এক অনন্য আনন্দ। কিন্তু কালের আবর্তে সেই দিন আজ অতীত।

ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের কাছে একসময় যোগাযোগের বড় ভরসা ছিল ডাকঘরের সেই বাক্স। প্রহর গুনে অপেক্ষা করতেন তারা। এখন আর জমে না প্রিয়জনের চিঠি, পড়ে থাকে শুধু অফিসিয়াল কাগজপত্র। শিক্ষার্থীদের কাছে বাক্সটি এখন এক টুকরো স্মৃতির ভাণ্ডার।

শাবিপ্রবি পোস্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাকপিয়ন মো. মাহতাব উদ্দিন জানান, “১৯৯২ সালের ১ জুলাই শাবিপ্রবি পোস্ট অফিসের যাত্রা শুরু হয়। তখন প্রতিদিন অসংখ্য চিঠি আসত। এখন ব্যক্তিগত চিঠি প্রায় আসে না বললেই চলে। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল চিঠিপত্র এখনো জমা পড়ে নিয়মিত।”

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, চিঠি আদান-প্রদানের সেই আন্তরিকতা আর আবেগ যদি ফিরত, তবে যোগাযোগের এক ভিন্ন আবহ সৃষ্টি হতো। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি সেই সোনালি দিনগুলো কেড়ে নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত আরা পমি বলেন, “ডাকবাক্সটা ছিল অনুভূতির জানালা। দূরের আপনজনের হাতে লেখা চিঠি এসে ভরাত মন। এখন বাক্সটা দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দে, নেই কোনো অপেক্ষার উত্তেজনা। প্রযুক্তি সহজ করেছে বটে, কিন্তু চিঠির কাগজের ছোঁয়া আর পাওয়া যায় না। বাক্সটা এখন কেবল ঝুলে আছে স্মৃতির হয়ে।”

আরেক শিক্ষার্থী রায়হান তালুকদার বলেন, “চিঠি সবার কাছেই আবেগময় বিষয়। বইয়ে চিঠি লেখার নিয়ম শেখা হলেও বাস্তবে আর ব্যবহার নেই। মোবাইল, ইন্টারনেট আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে উঠেছে যোগাযোগের প্রধান ভরসা। চিঠির দিনের গল্পগুলো আমাদের মধ্যে আজও অন্যরকম অনুভূতি জাগায়।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত