নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:৩৯

শাবিপ্রবি: ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড়

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। কর্মকান্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কোন তৎপরতা নেই। যদিও সবারই কমিটি রয়েছে। এছাড়া গোপনে কর্মকান্ড চালানোরও অভিযোগ রয়েছে।

রাজনীতি নিষিদ্ধ এই ক্যাম্পাসে এবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

রোববারই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গঠন করা হবে নির্বাচন কমিশন।

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলে দলীয় ব্যানারে শিক্ষার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কী না এমন প্রশ্ন ওঠেছে।

ইতোমধ্যেই শাকসু নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে নির্বাচন নিয়ে ভিন্নমত দিয়েছে সংগঠনগুলো।

বৈষম্যবিরোধ ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, “আমরা চাই নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ভোটার তালিকা ও রোডম্যাপ দ্রুত প্রণয়ন করা হোক। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান জানাই। নির্বাচন কমিশন শক্ত ও নিরপেক্ষ হতে হবে যাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোন নির্বাচন কমিশনার কমিশন থেকে পদত্যাগ না করেন।

অন্যদিকে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান প্রশ্ন তুলেছেন ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে কি না তা নিয়ে। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট থেকে প্রশাসন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে। ফলে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাও বিভ্রান্ত। তাই ন্যূনতম সময়সীমা দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালুর পর নির্বাচন হলে সেটি বেশি ফলপ্রসূ হবে।”

শাবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন জানান, “৫ আগস্টের পর প্রথম শাকসু নির্বাচনের দাবি আমরাই তুলেছিলাম। প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই ছাত্ররাজনীতি কল্যাণমুখী হোক। সেই লক্ষ্যেই আমরা নতুন কাঠামো প্রস্তাব করেছি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, “শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। খুব শিগগিরই আলোচনায় বসে রোডম্যাপসহ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে বিতর্কমুক্ত একটি নির্বাচন।

রোববার শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সেমিস্টার ফাইনালের প্রস্তুতিমূলক ছুটি চলছে। অক্টোবরের ১৫ তারিখের দিকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা প্রায় শেষ হবে। আমরা আশা করছি, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের। এ ক্ষেত্রে দুই–তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি হল সংসদের গঠনতন্ত্রের কাজ সম্পন্ন হয়নি, তা সম্পন্ন করা হবে। এ ছাড়া নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সর্বশেষ হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর আগে ১৯৯৩ সাল থেকে তিনবার শাকসু নির্বাচন হয়েছে। ২৮ বছর ধরে শাকসু অচল রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত