শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৫

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, দুই ছাত্রদল নেতা বহিস্কার

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে মন্তব্য করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে নতুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের উপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খাইরুল আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলে না’ এবং ‘সাস্টিয়ান, এক হও, লড়াই করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: ১. হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে। ২. শাহপরান আবাসিক হলের প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে ও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩. আহত শিক্ষার্থীসহ শাবিপ্রবির সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বলেন, অতীতেও হল-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, এবারও হলের সমস্যা তুলে ধরায় তাদের বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় এবং পরে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর তারা তদন্তের জন্য তিন দিনের সময় দিতে সম্মত হয়েছিলেন। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পর ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তার অভিযোগ, ওই ভাষা ঘটনাটিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করেনি এবং এতে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি তদন্ত কমিটির ভাষা সংশোধন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, শাহপরান হলের খাবারের মান নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করার জেরে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনই শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ওই বহিষ্কার আদেশ দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত