সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৯

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহকে অপসারণের দাবি ঢাবি ছাত্রদলের

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রতীকী ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রয়াত নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ছাত্রদল নেতারা এ দাবি জানান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামি করছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করেছে।

তারা বলেন, জিন্নাহর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় তার ছবি টানানোর মাধ্যমে ডাকসুকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছবিটি অপসারণ করতে হবে।

ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রয়াত নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে দ্রুত সময়ে ওই ছবি অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন- ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তী সময় আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্র সংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, সেই ডাকসু সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি স্থাপন- এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘অবিলম্বে ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে; ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।’

নেতারা আরও জানান, ১৯৪৮ সালে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার জিন্নাহর ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছিল, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যে কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত