১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪০
চলতি ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে ২২টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ আমদানি করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, জুলাই মাসে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ দেশে আসে। আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়। দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।
এর মধ্যে জুলাই মাসে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। অর্থাৎ আগস্টে ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। আগস্ট মাসে আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বেনাপোল দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ ও যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছটির সরবরাহ বেড়েছে। তবে বাজারে এসব মাছের একটি অংশ ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে পরিচিত হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন আড়তদারের দাবি, মিয়ানমারের ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তবে ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। তবে যশোরের বাজারে মিয়ানমারের ইলিশ নামে মাছ বিক্রি হওয়ার বিষয়টি তারা জানেন।
এদিকে বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবে ইলিশ দেশে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ফলে আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম।
যশোর বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, তুলনামূলক বড় আকারের মাছ কম দামে পাওয়ায় অনেক ক্রেতাই বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ পিয়ারু বলেন, এসব মাছ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে দেশে আসছে বলে তিনি জানেন। কয়েকজন দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীও একই দাবি করে বলেন, কম দামের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের চাহিদা কমেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশকে দেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রি করা হলে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরাও বাজার হারাচ্ছেন।
যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকি করা হয়। তবে আমদানি করা মাছকে দেশি মাছ হিসেবে বিক্রির বিষয়টি মৎস্য আইনের আওতাভুক্ত নয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আপনার মন্তব্য