সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১০

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ করে ভাঙলেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সংগ্রহশালায় রাখা পাকিস্তানের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি বিতর্কিত ছবি অপসারণ ও এটা ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ডাকসুতে প্রবেশ করে সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর ছবিটি খুলে নেন। পরে ছবিটি মেঝেতে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন তিনি।

বিক্ষুব্ধ ওই শিক্ষার্থীর নাম আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি ঢাবির উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। জানা গেছে, দীর্ঘ বিরতির পর তিনি ফের ঢাবিতে পড়াশোনার সুযোগ পান। তিনি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ডাকসু নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক ভিপি প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হন।

জানা গেছে, ছবিটি ভেঙে ফেলার সময় ডাকসু ভবনে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন।

ঘটনাটি নিয়ে ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টাঙানো হয়। সংসদের মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যার পূর্বাপর বেশ কিছু স্থিরচিত্র সেখানে স্থান পেয়েছে। পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি রয়েছে। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।

১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতেও জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনেই ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

ডাকসুর সংগ্রহশালায় আরো দেখা গেল আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি আতাউল গণি ওসমানী, নবাব সলিমুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ছবি। বঙ্গবন্ধুর কোনো একক বা গুরুত্বপূর্ণ ছবি সংগ্রহশালায় রাখা হয়নি। তবে ১৯৭৪ সালে তার দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত তিনটি পেপার কাটিং রাখা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন কিংবা ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি সেখানে রাখা হয়নি।

এদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল কোনো ছবি না রেখে পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জিন্নাহর ছবি রাখার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন- ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তী সময় আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্র সংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, সেই ডাকসু সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত