২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। এতে প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
তিন সপ্তাহ ধরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে একদফা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। পরে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, উপাচার্যের বিরুদ্ধে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা না হওয়ায় তাঁরা একদফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা ও নিয়ম অনুসরণ না করে বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ্যতা ও নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেনাকাটায় টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। নিম্নমানের সামগ্রী কেনা হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
তাঁদের আরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ, বাৎসরিক ফিস্ট ও হলে যাতায়াতের রাস্তা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় দেখিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ভর্তি পরীক্ষার আয় থেকে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কোনো কোনো শিক্ষকের বেতন আটকে রাখা, শোকজ করা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগও করেন তাঁরা। বায়োটেকনোলজী ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ডীন নিয়োগ ও অন্যায় ভাবে শিক্ষকদের প্রমোশন আটকে রাখেন। উপাচার্য প্রশাসনিক ভাবে অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ। দুর্ব্যবহার তার নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
তাঁদের দাবি, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রশাসনের আচরণে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষা-সহায়ক পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সিলেবাস উন্নয়নের জন্য তার কোন উদ্যোগ নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহীর থেকে বহিঃ পরীক্ষক আনার কথা টাকা তিনি ও তার অনুগতদের ভ্রমন কাজে ব্যয় করেছেন।
একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি
আন্দোলনকারীরা বলেন, তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে উপাচার্য অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।
তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থেই তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা।
রাজনৈতিক ও অন্যান্য অভিযোগ
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে কিছু ব্যক্তিকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে বাধা দেওয়া এবং ‘ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের’ অভিযোগও করেন।
সাদা দলের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: এমদাদুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ইউট্যাব সিকৃবি সভাপতি প্রফেসর ড. মো: ছিদ্দিকুল ইসলাম, সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল, অধ্যাপক ড. মো. কাজী মেহতাজুল ইসলাম, সহসভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো: কাওছার হোসেন, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো: আশরাফুজ্জামান, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, মো. বাসির উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশফাক আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সানাউল হোসেন সনি, ১ নম্বর সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম রাব্বানী, সদস্য আব্দুর রাকিব, সায়মুন ইসলাম কবির, জাহিদ হোসেন ফাহাদ, ধ্রুব, তরিকুল ইসলাম রাসেল ও মামুনুর রশিদ।
এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের নেতা মো. আবু সাঈদ, শওকত হোসেন, ইসমাইল হোসেন, মাইদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মী কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বক্তারা হুঁশিয়ারী করে বলেন অবিলম্বে এই উপাচার্য পদত্যাগ না করলে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য