২০ এপ্রিল, ২০১৫ ০২:০৩
এবার শিক্ষক রাজনীতিতে অস্থির হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকদের একটি বড় ও প্রভাবশালী অংশ। রোববার পর্যন্ত উপাচার্যকে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন সরকারপন্থী শিক্ষকদের একটি বড় অংশ। উপাচার্যও অনড়। সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পদত্যাগ করেননি তিনি।
ফলে আজ (সোমবার) সকালে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা অর্ধশতাধিক শিক্ষক। ফলে ক্যাম্পাসজুড়ে একই প্রশ্ন- আজ কী ঘটবে শাবিতে।
শিক্ষকদের এই আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরআগে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন বিরোধ থেকে সংঘাতে একজন নিহত হওয়ার জের ধরে দীর্ঘদিন বন্ধ থেকে শাবি। দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতায়ও ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম। এবার ক্যাম্পাসে অস্থিতরা ছড়াচ্ছেন খোদ উপাচার্যসহ শিক্ষকরা।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ শিক্ষকদের সাথে অসাদাচারণের। এই অভিযোগ ১৩ এপ্রিল দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন পদার্থ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের প্রধানগণ। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করেই শাবি শিক্ষকদের আভ্যন্তরীন বিরোধ প্রকাশ্যে রুপ নেয়। শুরু হয় অস্থিরতার। ওইদিনই বিভাগীয় প্রধানদের পদত্যাগের প্রতিবাদে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ বিক্ষোভ করে পদার্থ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষকরা।
১৫ এপ্রিল এই বিষয়ে সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভূদ্ধ শিক্ষকরা বৈঠক করে উপাচার্য আমিনুল ইসলাম ভূইয়াকে পদত্যাগের জন্য চারদিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। রোববার এই সময়সীমা শেষ হয়। আবার শিক্ষক সমিতি বৈঠক করে সৃষ্ট সঙ্কট সমাধানে উপাচার্যকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানায়।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, নানা কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই শাবি শিক্ষকদের গড়ে উঠে ভিসি বিরোধী বলয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় এই বলয় আরো শক্তশালী হয়ে উঠে। ভিসির আচরণের সুযোগেই সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই বলয় এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তারা উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে মাঠে নেমেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার সমর্থক আরেকটি অংশ উপাচার্যকে স্বপদে বহাল রাখার পক্ষে থাকলেও বিরোধীরা শক্তিশালী হয়ে উঠায় তারা মৌন রয়েছেন। সরকারপন্থী শিক্ষকরা দুই বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ায় বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষকরা সুযোগসন্ধানী অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অনেকেই ক্যাম্পাসকে অস্থির করার ইন্ধন জোগাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভূদ্ধ শিক্ষকদের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও উপাচার্য পদত্যাগ না করায় আজ কী ঘটবে এ নিয়ে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। ভিসি বিরোধি আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আজ স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন তারা।
এদিকে, উপাচার্যও হুমকীর মুখে দায়িত্ব ছেড়ে না দিতে অনড়। এ অবস্থায় আজ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। এমনটি ঘটলে আবারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে শিক্ষা কার্যক্রম।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উব্ধুদ্ধ শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আজ সকাল ১০ টায় অর্ধশতাধিক শিক্ষকরা দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন। এরমধ্যে ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির ডিরেক্টর থেকে লেখক ও অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সেন্টার ফর এক্সিলেন্সর ডিরেক্টর থেকে অধ্যাপক ড. ইউনুস, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্সের পরিচালক থেকে অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এমদাদুল হক, সহকারী প্রক্টর, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক, পরিবহন প্রশাসক, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সহকারী প্রভোস্ট রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মস্তাবুর রহমান জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ভিসির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা একসঙ্গে পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এমদাদুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করায় পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি আমিও পদত্যাগ করবো।
এদিকে শিক্ষকদের একটি বৃহৎ ও প্রভাবশালী অংশের এমন কঠোর ও অননমনীয় অবস্থানের মধ্যে নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভুঁইয়া। তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সাথেও এ পর্যন্ত কোনো বৈঠক করেননি উপাচার্য।
আমিনুল হক ভুঁইয়া বলেন, কারো সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন আমার স্বভাবসুলভ আচরন নয়। আমি কারো সাথে এমন আচরন করি না।
শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে উনারা পদত্যাগ করুক তারপরে দেখা যাবে। তবে আমি চাইব উনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
আপনার মন্তব্য