০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০৩
আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।
এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে–‘প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা: জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’। প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো প্রকৃতিকে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করে আসছে। ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত মানবিক পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় দিবসটির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, র্যালি, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক নানা আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। কোথাও দাবানল, কোথাও ভয়াবহ বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা কিংবা তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বন উজাড়, জলাভূমি ভরাট এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এই সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, তাপপ্রবাহ এবং নগরাঞ্চলে পরিবেশ দূষণ দেশের মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সংশ্লিষ্টরা পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
আপনার মন্তব্য