১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৭
সিলেটের দুই মাদ্রাসা ছাত্র অপহৃত হয়েছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করে তাদের পরিবার। ওই দুই কিশোরের একজনের অভিভাবকের ইমোতে মারধরের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণও চাওয়া হয়। পরে জানা যায়, মাদ্রাসায় না পড়তে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এই দুই কিশোর।
শনিবার এই দুই ছাত্রকে উদ্ধার করেছে এসআরবি-৯। মাদ্রাসায় পড়ার আগ্রহ না থাকায় তারা নিজেরাই আত্মগোপন করে বলে জানায় এসআরবি।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুরের ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে এসআরবি-৯-এর একটি দল।
এমন তথ্য জানিয়েছেন এসআরবি-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
এই দুই মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হওয়ার পর একজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধরের ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করার ভিডিও নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর হলো—সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে মো. সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাইম (১৫) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়বন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. তামিম আহমদ (১৫)। তারা সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় দুই কিশোর একসঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে তারা মাদ্রাসায় ফিরে না আসায় পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানান। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে অভিভাবকেরা শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে নাইমের বাবার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে নম্বরবিহীন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল আসে। সেখানে নাইমের মতো দেখতে এক কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়। পরে আরও একটি ভিডিও পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্ট থেকে নিখোঁজ দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।
ওইদিুই কিশেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, তারা মাদ্রাসায় পড়তে অনাগ্রহী ছিল। তাদের মধ্যে একজন এর আগে আরও দুইবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা নিজেরাই জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে চলে যায় এবং ওই রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করে।
তবে ইমো অ্যাকাউন্ট নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ সিলেটটুডেকে বলেন,
এ ব্যাপারে আমরা ওই দুই কিশরেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা জানিয়েছে- এই ভিডিও তাদের না, তারা এমন কোন ভিডিও পাঠায়ওনি।
ওই এএসপি বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনা জানাজানির পর কোন স্বার্ণান্বেষী গোষ্ঠি অন্য কোন শিশুর ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতে পারে। আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি।
আপনার মন্তব্য