নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৫১তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৫ আগস্ট। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার নির্মমভাবে হত্যা করা হয়— রচিত হয় ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করা হয় তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরকে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সরকারগুলো বিচারের পথ বন্ধ করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে ও পরে আইনে পরিণত করে। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এখন পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। পাঁচজন এখনো পলাতক।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আদেশ বাতিল করে দেয় হাই কোর্ট। এরপর থেকে দিনটি জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০০৮ সালের হাই কোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে লিভ টু আপিল করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে দেয় তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এতে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল হয়ে যায়।

শোক দিবসে প্রতি বছর আওয়ামী লীগ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ও বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতো। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদসহ বিশেষ প্রার্থনা ও কাঙালিভোজের আয়োজন করা হতো। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর একাধিকবার মব চালিয়ে ধানমন্ডির বত্রিশ ভাঙার পর পনেরো আগস্টের প্রাক্কালে সেখানে কাউকে ফুল দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এবারও ধানমন্ডি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে।

সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অব্যাহত রেখেছে বিএনপি সরকার। ফলে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে আগের মতো আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি নেই। তবে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে দলটির কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে টুঙ্গিপাড়ায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ই আগস্টে নিহত সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন; ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নং বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন; বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টে নিহত সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত ও দোয়া; বনানী কবরস্থান মসজিদে দোয়া, মিলাদ; দেশব্যাপী দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ; দেশব্যাপী মসজিদে দোয়া ও মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় প্রার্থনা; বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা প্রদান। এছাড়া শনিবার রাত ৯টায় "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়" শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে ফেসবুক পোস্টে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত