Advertise

ডা. ফয়ছল আহমদ মুহিন

২৯ মার্চ, ২০২০ ০১:৪৮

করোনার আদ্যপ্রান্ত

করোনা ভাইরাস বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং মরণব্যাধির নাম। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৯৯ টি দেশের সাড়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত, এবং শনিবার পর্যন্ত মারা গেছে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি লোক। যার ধারাবাহিকতায় আমরা আজ মৃত্যুর কাছাকাছি।

এই করোনা ভাইরাস নামক মরণব্যাধি কী, এর ইতিহাস, কিভাবে মানবদেহে আসলো, মানবদেহের কী কী ক্ষতি বা লক্ষণ বা উপসর্গ, এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী- এসব এ লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করব। আশা করি যারা চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে জড়িত বা জ্ঞান রাখেন তাদের জন্য সহজে বোধগম্য হলেও অন্যান্যদের বুঝতে কষ্ট হবে না।

করোনার ইতিহাস এবং মানবদেহে আগমন:
বর্তমানে প্রায় ১০০ প্রজাতির করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে পশুপাখি যেমন বাদুর, ইঁদুর, শুকর, কুকুর, বিড়াল, খরগোস, ঘোড়া, উট ইত্যাদি দেহে বিদ্যমান। যার মধ্যে ৭ প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমণ করতেন সক্ষম।

সাধারণত এইগুলো মানবদেহে আসার কথা না তবে বিজ্ঞানীদের মতে বর্তমান সময়ে প্রকৃতির অবাধ পরিবর্তন (Natural change), প্রতিনিয়ত ভাইরাসের আকার আকৃতির পরিবর্তন (Viral mutation), মানুষ এবং পশুপাখির মধ্যে মেলামেশা(Contagious) এই সব কারণে মানবদেহে আসতে পারে।

এই ৭ প্রজাতির মধ্যে ৪ টা (mild)  ক্ষতিকারক বা ৩ টা SARS-CoV (Severe Acute Respiratory Syndrome -Corona Virus), MERS-CoV (Middle East Respiratory Syndrome -Corona Virus), এবং অতি সম্প্রতি SARS-CoV -19 বা কভিড-১৯ মারাত্মক ক্ষতিকারক (Severe)।

সর্বপ্রথম ২০০২ সালে চীনে Guangdong-এ সার্স করোনা ভাইরাসে (SARS-CoV) বিস্তার লাভ করে এবং তৎকালীন সময় প্রায় ২ বছর ব্যাপী ২৯ দেশের ৮ হাজারের মত মানুষ আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৮ শত মত মানুষ মারা যায়।

পরবর্তীতে ২০১২ সালে পুনরায় সৌদিআরবে মার্স (MERS-CoV) করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটে এবং ২৪ টি মত দেশে প্রায় ১ হাজারের মত আক্রান্ত হয়ে ৭শত মত মারা যায়।

সার্স কভিড ১৯ (SARS-CoV-19) বা কভিড-১৯ (CoV-19) এই জন্য বলা হচ্ছে যে এই মরণব্যাধি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের দিকে প্রথম চীনের উহান প্রদেশ থেকে বিস্তার লাভ করে এবং পরবর্তী ইরান, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র সহ অনেক দেশে মহামারি আকার ধারণ করছে এবং পৃথিবীর এখন পর্যন্ত ১৯৯ টি দেশ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। যদি আমরা সময় মত সচেতনতার সাথে মোকাবেলা না করতে পারি তাহলে আমাদের অবস্থা কি হতে পারে তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ ভাল বলতে পারবে না।

করোনা ভাইরাসের শারীরিক গঠন:
করোনা ভাইরাস অনেকটা দেখেতে কদম ফুলের মত। ভাইরাসটা এতই ক্ষুদ্র যে সাধারণ Microscope দিয়ে দেখা সম্ভব নয় তাই Electron Microscope দিয়ে দেখতে হয়। এর গায়ে অসংখ্য আঠালো কাটার মত Glycoprotein spike (S) থাকে যার সাহায্য মানুষের শরীরের কোষের (Human Cell)ভিতর ঢুকে পড়ে।

* বাইরের দিকে Envelop (E) নামক এক প্রকার শক্ত আবরণ থাকে যার মাধ্যমে ভাইরাস সুরক্ষিত থাকে, এই আবরণ ভাঙ্গার মত এখন পর্যন্ত কোন প্রাকার ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয় নি।

* এই Envelope এর ঠিক নিছে Membrane protein (M) এর আরেকটি আবরণ আছে।

* সর্বোপরি ভিতরের দিকে সবচেয়ে ক্ষতিকারক Nucleocapsid দিয়ে মোড়ানো RAN নামক একপ্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে যার সাহায্য ভাইরাসটি দ্রুত বংশবিস্তার সহ প্রতিনিয়তই দেহের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করতেন পারে।

করোনার লক্ষণ বা উপসর্গ:
করোনা ভাইরাসের প্রধান লক্ষ্য শ্বাসতন্ত্রের (Respiratory tract) -নাক, গলা এবং ফুসফুস। তাই সাধারণত হাতের সংস্পর্শে মুখের ভিতর ঢুকে এবং দেহের ভিতর দ্রুত বিস্তার ঘটে ফলে-

* নাক দিয়ে সর্দি পড়া সহ হাঁচি কাশি, গলা ব্যথা এবং অস্বাভাবিক হারে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি (জ্বর) ১০২, ১০৩ ডিগ্রি বা তার উপরে উঠতে পারে।

* হঠাৎ শ্বাসকষ্টের লক্ষণসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে।