ওয়েব ডেস্ক

০৩ জানুয়ারি, ২০১৬ ২২:১৩

পাকিস্তানের বাংলাদেশ বিরোধিতা এবার মিডিয়ায়ও

বাংলাদেশের ব্লগারদের নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত কপিগুলো থেকে উধাও করে দেওয়া হয়

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষাবলম্বনই শেষ কথা নয়, পাকিস্তান এবার তাদের দেশে বাংলাদেশ ইস্যুতে সংবাদকে পত্রিকা থেকে ‘উধাও’ করে দেওয়া শুরু করেছে। পাকিস্তান সরকারের পর এবার পাকিস্তানি মিডিয়াও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রটির শনিবারের আন্তর্জাতিক সংস্করণে বাংলাদেশের ব্লগারদের নিয়ে যে প্রতিবেদন বেরিয়েছিল, তা ছিল না পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত কপিগুলোতে। সেখানে প্রথম পাতার ওই অংশটি ফাঁকা ছিল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের একই আন্তর্জাতিক সংস্করণ বিভিন্ন দেশ থেকে বের হয়। বিভিন্ন দেশে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এটি ছাপানো হয়ে থাকে।

পাকিস্তানের ঘটনার বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, “প্রতিবেদনটি পাকিস্তানে আমাদের প্রকাশনার সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে ফেলেছে। সরিয়ে ফেলার ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং এর সম্পাদকীয় বিভাগের কোনো ভূমিকা নেই।”

‘বাংলাদেশের ব্লগাররা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে’ শিরোনামে নিউ ইয়র্ক টাইমসের অন্যতম ফ্রিল্যান্স প্রতিনিধি জশুয়া হ্যামারের প্রতিবেদনটি পত্রিকাটির আন্তর্জাতিক সংস্করণের প্রথম পাতার নিচের অংশে প্রকাশিত হয়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট তাদের খবরে শিরোনাম করেছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তান সংস্করণ ‘সেকুলার ব্লগারদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিবন্ধটি সরিয়ে ফেলেছে; ফাঁকা রয়েছে পত্রিকাটির প্রথম ও দ্বিতীয় পাতা।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তানি প্রতিনিধি সালমান মাসুদ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে আর্টিকেলটি সহ পত্রিকাটির একটি অনলাইন সংস্করণ এবং আর্টিকেলটি উঠিয়ে দেয়া পত্রিকাটির একটি হার্ড কপির ছবি টুইট করেছেন। যেখানে বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধাচারণের বিষয়টি সকলের নজরে আসে।

পাকিস্তানের প্রকাশকরা আর্টিকেলটি সরিয়ে দিলে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকাটির আন্তর্জাতিক সংস্করণে দুটি পেজে ফাঁকা অংশ সৃষ্টি হয়। পত্রিকাটির ফ্রিল্যান্স প্রতিনিধি জশুয়া হ্যামারের লেখা প্রথম পেজে প্রকাশিত এবং ২য় পৃষ্ঠায় কিয়দংশে থাকা প্রতিবেদনটি ‘দ্য ইমপেরিল্ড ব্লগারস অব বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশের বিপন্ন ব্লগাররা) সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর এজন্য পৃষ্ঠাগুলোর সেই অংশটুকু সাদা রাখা হয়েছে।

লিঙ্গ সমতা, মানবাধিকার, চিন্তার স্বাধীনতার প্রচারকারী এবং অনলাইনে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাংলাদেশী কয়েকজন ব্লগারদের উপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে আর্টিকেলটিতে। মুক্ত চিন্তা, ‘নাস্তিক’ মনোভাব, ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগিংয়ের কারণে হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনলাইন কর্মী আসিফ মহিউদ্দিনের কথা উঠে এসেছে। প্রাণনাশের হুমকির মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

নিজের কর্মস্থল আইটি কোম্পানি ভবনের বাইরেই ধারালো অস্ত্রের নির্মম হামলার শিকার হন আসিফ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলাকারীর সাথে দেখা করতে গিয়েও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাই হয় আসিফের। হামলাকারী আসিফকে জানায়, সে জিহাদের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলো। কারাগার থেকে মুক্তি পেলে সে কি করবে এমন প্রশ্নের জবাবে হামলাকারীর শীতল জবাব, “আমি আবারও চেষ্টা করবো।”

আসিফ মহীউদ্দীনের উপর হামলার পর বাংলাদেশে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ২০১৩ সালে।

এরপর দুই বছরে অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয় দাশ, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, নিলয় নীল এবং সর্বশেষ তিন মাস আগে প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এই সব হত্যাকাণ্ডে ইসলামী জঙ্গিরা জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেপ্তার কয়েকজন স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, ব্লগারদের ‘ইসলামবিরোধী’ হিসেবে বিবেচনা করে তারা হত্যাকাণ্ডে প্ররোচিত হয়েছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত