০৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৪:২৭
যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে দেশটিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন।
ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া এই বিলিওনিয়ার সম্প্রতি মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মায়ের জন্ম স্কটল্যান্ডে। সেখানে ট্রাম্পের মালিকানায় দুটি গলফ কোর্স রয়েছে। জানা গেছে ওই গলফ কোর্সে ট্রাম্পের ৭০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের মুখপাত্র জর্জ সরিয়াল জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশে যেকোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলে ট্রাম্প ওই বিনিয়োগের পরিকল্পনা তখনই বাতিল করে দেবেন।
সরিয়াল জানিয়েছেন, ওয়েস্টমিনস্টারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে বিতর্ক হলে তা ‘বিপজ্জনক উদাহরণ’ হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এর মধ্যদিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ভয়ংকর অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে।
পাশাপাশি, বিনিয়োগে উদ্যোগীদের প্রতি দেশটির অবজ্ঞাও এর মাধ্যমে উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছেন সরিয়াল।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে দেওয়া একটি গণপিটিশনের উপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিতর্কের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের পিটিশন কমিটি এই ইস্যুটি নিয়ে একটি বিতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেয়।
১৮ জানুয়ারি ওয়েস্টমিনিস্টার হলে বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ লেবার দলীয় এমপি পল ফ্লিন বিতর্কে নেতৃত্ব দিবেন।
প্রায় পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ব্রিটিশ নাগরিকের সই করা ওই গণপিটিশনে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেন যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে দেয়া না হয় সেই দাবি জানানো হয়েছে।
গেল বছরের শেষ দিকে প্যারিসে ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো শহরের একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে দুই বন্দুকধারীর হামলায় ১৪ জন নিহত হন। দুটি হামলার সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তৃতায় মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান। তার ওই বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ওই বক্তৃতার জেরে ব্রিটেনের নাগরিকরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে পিটিশনটি দাখিল করেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু ব্রিটেনে ট্রাম্পের বড় ধরনের ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে, তাই ক্যামেরন ট্রাম্পের উপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন।
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টরজেওনও একাধিকবার ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যগুলোর নিন্দা জানিয়েছেন।
ব্রিটেনের চলতি আইন অনুযায়ী, এক লাখ সই রয়েছে এমন গণপিটিশন নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনার বিষয়টি আইনপ্রণেতাদের অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।
তবে এ ধরনের বিতর্কের পর কোনো সিদ্ধান্ত হয় না, পক্ষে-বিপক্ষে কোনো ভোটও আহ্বান করা হয় না। ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে দেয়া কিংবা না দেয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর।
অপর একটি গণপিটিশন নিয়েও ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা আলোচনা করবেন। প্রায় ৪০ হাজার ব্রিটিশ নাগরিকের সই করা ওই পিটিশনে ট্রাম্পের উপর যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি অযৌক্তিক বলে দাবি করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য