১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে পাল্টা আঘাত হানার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বিবিসি ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সরকারের কঠোর দমন-পীড়নে এখন পর্যন্ত কয়েকশ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘এখানকার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। রাস্তায় রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনেক বন্ধু মারা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি তাজা গুলি ছুড়ছে এবং ট্রাক বোঝাই করে লাশ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
তেহরানের কাছে কাহরিজাকের একটি মর্গের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিবিসি প্রায় ১৮০টি মরদেহবাহী ব্যাগ গুনতে পেরেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৪৯৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হওয়ার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১০ হাজার ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের হত্যার প্রতিবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যখন স্বাধীনতার পথ খুঁজছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘সহায়তায় প্রস্তুত’ রয়েছে। সামরিক হামলার বিকল্পগুলো নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করা হয়েছে বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। এছাড়া অনলাইন প্রচারণা বাড়ানো বা সাইবার হামলার মতো বিষয়গুলোও ওয়াশিংটনের বিবেচনায় রয়েছে।
এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে ওই অঞ্চলে থাকা ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ও নৌ-ঘাঁটিগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
হাসপাতাল কর্মীদের ভাষ্যমতে, নিহত ও আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। রাশত শহরের একটি হাসপাতালেই শুক্রবার রাতে ৭০টি মরদেহ আনা হয়েছে। তেহরানের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, সরাসরি মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেক তরুণ হাসপাতালে আসার আগেই মারা যাচ্ছেন।
ইরান সরকার গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্নেষকদের মতে, ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের চেয়েও এবার ইন্টারনেটে কড়াকড়ি অনেক বেশি। বর্তমানে কেবল স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের কিছুটা সুযোগ থাকলেও তা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরা দেশে ঢুকে মসজিদ ও বাজারে আগুন দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
তবে বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি পার্সিয়ান নিশ্চিত করেছে যে, তেহরান, কেরমানশাহ এবং বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে। এমনকি ইলাম শহরের ইমাম খোমেনী হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া মানুষের ওপরও নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালাতে দেখা গেছে।
ইরান সরকার নিহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং তাদের ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতীয় যুদ্ধে শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
আপনার মন্তব্য