২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১১
ধান কাটার মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে টানা ভারী বৃষ্টি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে নেমে এসেছে কৃষকের জন্য নতুন বিপর্যয়। আকস্মিক আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে পাকা বোরো ধান। ইতিমধ্যে অন্তত ৪০০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে চলে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চোখে-মুখে এখন হতাশা, অনিশ্চয়তা আর ঋণের দুশ্চিন্তা।
গত দুদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সোমবার রাত থেকেই দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করে। এতে গুঙ্গিয়াজুড়ি, মকারসহ কয়েকটি হাওর এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। যেসব কৃষক ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকের ক্ষেতই এরই মধ্যে পানির নিচে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনালি ধানের মাঠ এখন শুধু থৈ থৈ পানি। কোথাও ডুবে আছে পাকা ধান, কোথাও পানির ওপর ভাসছে ধানের শীষ। কৃষকের মুখে একটাই কথা—‘সব শেষ’।
নবীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ মৌসুমে উপজেলায় ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হলেও এখনো বড় অংশ মাঠে রয়েছে। এর মধ্যেই প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরের কৃষক মতিন মিয়া বলেন, “ধান কাটার সময় সব পানির নিচে চলে গেল। ঋণ করে চাষ করেছি, এখন সেই টাকা শোধ করব কীভাবে জানি না। সব স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেল।”
মকার হাওরের কৃষক ছলিম মিয়া বলেন, “যে ধান পানির ওপরে আছে, সেটাও মেশিন দিয়ে কাটা যাবে না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।”
শুধু হাওর নয়, নবীগঞ্জের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতায় বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। একই চিত্র পাশের বানিয়াচং উপজেলার কিছু হাওরেও।
নবীগঞ্জ উপজেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমের এই সময়ে অস্বাভাবিক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি বলেন, “গত তিন দিনের মুষলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় ৪০০ হেক্টর পাকা বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।”
হাওরে বারবার এমন দুর্যোগে দিশেহারা কৃষকেরা এখন সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঋণ, লোকসান আর খাদ্যসংকটে অনেক পরিবার বড় সংকটে পড়বে।
আপনার মন্তব্য