১৪ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৪৬
ইরানের খাগ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনী বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো হলে ইরানের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে। ইরানের খাগ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তবে দ্বীপটির তেল অবকাঠামো এখনই ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, আমি আপাতত দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে আমি তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই দ্বীপটির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খাগ দ্বীপ দখল করার পরিকল্পনা তাদের বিবেচনায় রয়েছে।
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই খাগ দ্বীপ। জেপি মর্গান-এর সাম্প্রতিক এক তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আয়তনে ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই ভূখণ্ডটির ওপর যেকোনও হামলার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতোমধ্যেই ইরানের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের তেল অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। এই সংকট নিরসনে তিনি জানান, তেল রফতানি পুনরায় স্বাভাবিক করতে খুব শিগগিরই মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে।
ষাট ও সত্তরের দশকে ইরানের তেল শিল্প প্রসারের সময় খাগ দ্বীপের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। সে সময় ইরানের উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ স্থানই সুপারট্যাঙ্কার ভেড়ানোর জন্য যথেষ্ট গভীর ছিল না, যা খাগ দ্বীপকে দেশটির তেল বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করে।
আপনার মন্তব্য