১৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৯
বছর দেড়েক আগে ঘটেছিল ঘটনাটা। খবর সংগ্রহের মধ্যেই এক শরণার্থীকে লাথি ও ল্যাং মেরে সমালোচিত হন হাঙ্গেরির নারী সংবাদকর্মী পেত্রা লাসলো। বিচার শেষে তাকে তিন বছরের সাজা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) হাঙ্গেরির সেজেডে ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ রায় দেন।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাঙ্গেরি-সার্বিয়ার রোসকি সীমান্তে দুই শিশুকে পেত্রার লাথি ও এক বৃদ্ধকে ল্যাং মারার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ওই সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল ঠেকাতে পুলিশি তত্পরতার মধ্যে আরো অনেকের সঙ্গে খবর ও ছবি সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন ক্যামেরাপারসন পেত্রা। শরনার্থীরা এক পর্যায়ে পুলিশি বেষ্টনি ভেঙে বুদাপেস্টের দিকে ছুট লাগালে শিশু কোলে ছুটতে থাকা এক বৃদ্ধ হুড়োহুড়ির মধ্যে পেত্রা পাসলোর সামনে পড়ে যান।
ভিডিওতে দেখা যায়, ছুটতে থাকা শরণার্থীদের ছবি ধারণ করতে করতেই হঠাৎ দুই শিশুকে লাথি মেরে বসেন পেত্রা। পরে পা বাড়িয়ে ল্যাং মেরে ছুটন্ত ওই বৃদ্ধকে ফেলে দেন। এ সময় পড়ে যাওয়া বৃদ্ধকে পেত্রার সঙ্গে তর্ক করতে এবং শিশুটিকে কাঁদতে দেখা যায় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান।
শরণার্থীদের প্রতি এ অমানবিক আচরণের জন্য নিজের দেশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন পেত্রা। ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে ডানপন্থি টেলিভিশন চ্যানেল এনওয়ানটিভি থেকে চাকরিও হারান তিনি।
পেত্রা দাবি করেন, নিজেকে বাঁচাতেই সীমান্তে শরণার্থীদের সঙ্গে ওই আচরণ করেছিলেন তিনি। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন “আমি ঘুরে দাঁড়াতেই দেখি কয়েকশ মানুষ আমার দিকে তেড়ে আসছে, যা ছিল অবিশ্বাস্য ও ভয়ানক।”
তার এসব দাবি নাকচ করে দিয়ে বিচারক ইলেস নানাসি বলেন, পেত্রার আচরণ ছিল ‘সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি’।
অবশ্য তিন বছরের সাজার সময় পেত্রাকে জেল খাটতে হবে না। তবে তাকে কিছু শর্ত মেনে নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে। যদিও এর বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন পেত্রা।
শুক্রবার রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না পেত্রা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি শুনানিতে অংশ নেন।
আপনার মন্তব্য