সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ ১৪:২৩

যুক্তরাষ্ট্রে আত্মীয়-স্বজন নেওয়ার রীতিতে কড়াকড়ি সম্পর্কিত বিল সিনেটে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের আত্মীয়-স্বজনকে ভিসা প্রদানের ওপর কড়াকড়ি আরোপ সংক্রান্ত এক বিল উঠেছে সিনেটে। মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণকারীরা শুধুমাত্র তাদের স্বামী/স্ত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারবেন-এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন এবং জর্জিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর ডেভিড পারডিউ এই বিল উত্থাপন করেন। তারা আশা করছেন বিলটি সিনেটে পাশ হবে।

প্রস্তাবিত বিলে বার্ষিক ৫০ হাজার রিফুজিকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দানের বিধি সীমিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি প্রদানের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বিলে ডিভি লটারিও স্থায়ীভাবে বিলুপ্তির কথা রয়েছে।

সিনেটর টম কটন এ বিলের যুক্তি উপস্থাপনকালে বলেন, ‘যখনই কেউ ইমিগ্র্যান্ট-ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেন, তখনই গ্রিনকার্ড হাতে পান। এরপরই স্বামী/স্ত্রী, মা-বাবা এবং সেই সূত্রে ঘনিষ্ঠ সকলকে বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে আনার পথ সুগম হয়। আমি মনে করি এমন ব্যবস্থা আমেরিকান শ্রমিক-কর্মচারির জন্যে কোনভাবেই শুভ নয়। ’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কর্মকাণ্ডে সারা যুক্তরাষ্ট্রে যখন তুমুল বিক্ষোভের পাশাপাশি আইনগত লড়াই চলছে, তখন এ বিল গোটা পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করলো বলে মন্তব্য করেছেন ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল রিসোর্স সেন্টার’র এটর্নি মার্ক সিলভারম্যান। তিনি বলেন, ‘এহেন অ-আমেরিকান কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে একদিন হয়তো ওরা স্ট্যাচু অব লিবার্টিও উচ্ছেদ করবে। সিটিজেনশিপ গ্রহণকারীদের সবকিছু কেড়ে নিতে চাইবে। ’

অশ্বেতাঙ্গরা যাতে কোনভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম না হয়, সে জন্যেই রিপাবলিকানরা এমন অ-আমেরিকান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক লীগের সভাপতি খোরশেদ খন্দকার। তিনি বলেন, ‘অমানবিক আচরণের স্থায়িত্ব খুবই স্বল্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকানরা যা করছে, তার অবসান খুব দ্রুত ঘটবে প্রকৃতির নিয়মেই। ’

পারিবারিক কোটায় আত্মীয়-স্বজনকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই ধীরগতি শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সিনেটের এ বিল পাশ হলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ এশিয়ান, স্প্যানিশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের লোকজনের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসতির প্রত্যাশা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত