নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:৪৪

সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ: এক বছরেও প্রকাশ হয়নি আপিলের রায়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদীর আপিলের নিষ্পত্তি হলেও এক বছরেও প্রকাশ হয়নি পূর্ণাঙ্গ রায়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে আপিলের রায়ে সাঈদীর ফাঁসির দণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ আপিল বিভাগ এ রায় দেন; কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়নি এখনও। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে রায় প্রকাশ হলে মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে আপিল করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কত দিনের মধ্যে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করবেন কিংবা কত দিনে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করবেন সে বিষয়ে কোনো সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই। এটি একান্তই আপিল বিভাগের এখতিয়ার। ফলে এখনও ঝুলে আছে রায় রায় প্রকাশ প্রক্রিয়া।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন সংশোধন করে আপিল দাখিল করার দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার বিধান যুক্ত করা হয়। তবে এই সময়সীমা মানা আপিল বিভাগের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা-সংক্রান্ত আপিল ছাড়াও আরো নানা ধরনের মামলা চলে। এ অবস্থায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা-সংক্রান্ত আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি এবং এর পূর্ণাঙ্গ রায় দ্রুত প্রকাশের জন্য আপিল বিভাগে বিশেষ বেঞ্চ কিংবা ট্রাইব্যুনালের ভেতরেই আলাদা আপিল ট্রাইব্যুনাল বা আপিল চেম্বার গঠন করা দরকার বলে মনে করেন অনেকই।

এ প্রসঙ্গে সিলেট গণজাগরণ আন্দোলনের সংগঠক রাজীব রাসেল বলেন- " কুখ্যাত রাজাকার ও ধর্ম ব্যবসায়ী সাইদির অপরাধ প্রমান হওয়া সত্বেও তার ফাঁসি না হওয়া দুঃখজনক। আশা করি পূর্নাঙ্গ রায় শিগগির প্রকাশ হবে এবং সাইদির ফাঁসির মাধ্যমে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।"

অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে তা রিভিউয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সাঈদীর আপিলের রায় দেওয়ার পর আপিল বিভাগ জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলায় চূড়ান্ত রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে কামারুজ্জামানের করা আপিল নিষ্পত্তি করে গত বছর ৩ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি।

এরপর করা রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি শেষে গত ১১ এপ্রিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এরপর মুজাহিদের আপিলের রায় দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের শুনানি শেষে ২৯ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয় এবং ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখা হয়।  

এক বছর আগে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সাঈদীর মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে ওই রায় দেওয়া হয়। তখনকার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের (বর্তমানে অবসরে) নেতৃত্বে এ বেঞ্চের সদস্য ছিলেন বিচারপতি এস কে সিনহা (বর্তমান প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে বিচারে সাঈদীর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হলেও আপিল বিভাগে প্রমাণিত হয় পাঁচটি। ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত তিনটি অভিযোগ থেকে আপিল বিভাগ সাঈদীকে খালাস দেন। আপিল বিভাগ প্রমাণিত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড, একটিতে ১২ বছরের ও একটিতে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

তবে আপিল বিভাগের রায়ে কী কারণে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি। আর কোন তিনটি অভিযোগের দায় থেকে সাঈদীকে খালাস দেওয়া হয়েছে, তাও জানা যায়নি। রায় প্রকাশ করার পর এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল আটটি অভিযোগে সাঈদীকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এসবের মধ্যে দুটি অভিযোগে (ইব্রাহিম কুট্টি ও বিশাবালীকে হত্যা) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য ছয়টিতে কোনো সাজা দেননি ট্রাইব্যুনাল।

ওই রায়ে বলা হয়েছিল, যেহেতু দুটিতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হলো, তাই অন্য প্রমাণিত অপরাধে শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া ১২টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা থেকে সাঈদীকে খালাস দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত