সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৩:১৯

শীতে পা ফাটার কারণ, ঝুঁকি ও সমাধানে যা করবেন

ছবি: সংগৃহীত

শীতের সময় অনেকেরই পা ফাটে বা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে চামড়া উঠতে থাকে, যা যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি বিব্রতকরও। শীতকালে পানি কম পান করার কারণে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক রুক্ষ হয়ে ফাটতে শুরু করে। পা নোংরা থাকা বা খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাসও পা ফাটার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শীতে পায়ের আলাদা যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।

ফাটা ত্বকের ভেতর দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করলে সংক্রমণ হতে পারে এবং কখনও কখনও ত্বক রক্তাক্ত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পা ফাটা অবস্থায় থাকলে ব্যথা, ফোলা ভাব এবং হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দেয়।

পা ফাটার কারণ

  • খালি পায়ে হাঁটা
  • দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করা
  • শক্ত বা কষ্টদায়ক জুতা পরা
  • ধুলাবালুর পরিবেশে কাজ করা
  • পর্যাপ্ত পানি কম পান করা
  • ভিটামিন এ, সি ও ই–এর ঘাটতি

কিছু রোগের কারণেও পা ফাটতে পারে। যেমন—জিনসংক্রান্ত রোগ পামোপ্ল্যান্টার কেরাটোডার্মা, যেখানে ত্বক অত্যন্ত পুরু হয়ে যায় এবং শুষ্কতার কারণে ফেটে যায়।
এ ছাড়া সোরিয়াসিস রোগ শীতে প্রকট হয়ে ওঠে। এতে হাত–পায়ে চাকা চাকা দাগ, চুলকানি ও চামড়া ওঠার পাশাপাশি ফেটে লাল মাংসও দেখা দিতে পারে। টিরিয়াসিস রুব্রা পাইলারিস নামের আরেকটি জিনবাহিত রোগে হাত–পা প্রচণ্ড শুষ্ক হয়ে যায়, ফলে পা ফাটার প্রবণতা বাড়ে।

পা ফাটা কেন বিপজ্জনকঃ-


ফাটা গোড়ালি শুধু ব্যথাই সৃষ্টি করে না—ত্বকে সংক্রমণ, ফোলা ভাব ও চলাফেরায় অস্বস্তি তৈরি করে। ফাটা ত্বকে জীবাণু ঢুকলে পুঁজ বা ঘা পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেক বেশি জটিল হতে পারে।

সমাধান ও করণীয়ঃ-

 

  • ত্বক নরম রাখা—এটাই প্রধান শর্ত
  • খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলা
  • আরামদায়ক নরম জুতা ও সুতি মোজা ব্যবহার
  • প্রতিদিন ২–২.৫ লিটার পানি পান
  • নিয়মিত পা ধুয়ে পরিষ্কার করে হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় লোশন/ভ্যাসলিন লাগানো
  • গোড়ালি ফাটলে ঝামা বা পিউমিস পাথর দিয়ে মরা চামড়া তুলে ফেলা
  • এরপর নারকেল তেল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
  • কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে ৩০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখা
  • সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ রাতে পায়ে লাগিয়ে রেখে দেওয়া

নিয়মিত যত্নের পরও যদি পা ফাটার সমস্যা কমে না আসে, সংক্রমণ বা ব্যথা বাড়ে—তাহলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত