১০ অক্টোবর, ২০১৫ ১৩:০১
প্রতিদিন প্রচণ্ড নির্যাতনের পর শিশু গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার যাতে বাসা থেকে পালাতে না পারে সেজন্য তাকে বাথরুমে ঘুমাতে বাধ্য করতেন ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন জাহান নিত্য।
১১ বছরের এই শিশুর পা ও হাতের আঙ্গুলও ভেঙ্গে দিয়েছেল তারা। ঢাকার মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রানী চক্রবর্তীর কাছে জবানবন্দি দিয়ে একই কথা জানায় ওই শিশু।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি রয়েছে। সেন্টারের সমন্বয়ক বিলকিস বেগম বলেন, শিশুটিকে সেখানে আনার পর তাঁরা এক্স-রে করেন। তাতে দেখা যায়, তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভাঙা। হাতের একটা আঙুল ভাঙা। তার পিঠে, হাতে-পায়ে, মুখে—সব জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। শিশুটির দুই চোখের আঘাত ছিল গুরুতর।
শিশুটি জানায় সে একবছর থেকে শাহাদাতের বাসায় কাজ করে। তার বাবা-মা আলাদা আলাদা বিয়ে করায় নানির কাছে বড় হয় সে।
শাহাদাতের বাসায় কাজ শুরুর পর ভুল করলে প্রথমে বকা দিতেন শাহাদাত ও তাঁর স্ত্রী পরে তারা কিল ঘুষি মারতে শুরু করেন। এক সময় তাদের আচরণ আরও ক্ষীপ্ত হয় তারা তাকে হাতের কাছে যা পেতেন তাই দিয়ে পেটাতেন তাকে।
এদিকে বিচারকের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে শিশুটি বলেছে, ‘...মারতে মারতে চার-পাঁচটি ডাল ঘুটনি ভেঙেছে। ভাতের চামচ দিয়েও মারত। প্লাস্টিকের চামচও ভেঙেছে কয়েকটা। এমনকি প্রায় আমাকে রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে মারত। একদিন আমি ওটা লুকিয়ে রেখেছিলাম। তখন ওরা আমাকে বলে, আরও একটা বেলুন কিনে আনছে। শাহাদাত হোসেনের বউ কাঠের খুন্তি গরম তেল থেকে তুলে আমার হাঁটুতে ছ্যাঁকা দিত।’
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৬ সেপ্টেম্বর শাহাদাতের বাসা থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটি। পরবর্তী সময়ে খন্দকার মোজাম্মেল হক নামের এক সাংবাদিক বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় শাহাদাত ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় শাহাদাত রিমান্ডে এবং তাঁর স্ত্রী কারাগারে আছেন।
আপনার মন্তব্য