নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ নভেম্বর, ২০১৫ ১৪:০১

মর্গের দ্বাররক্ষক দীপনকে বলেছিলেন ‘স্যার ভেতরে গিয়ে দেখবেন’

প্রথাবিরোধী, বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক-প্রকাশকদের হত্যার মিছিলে যুক্ত হওয়া অভিজিৎ রায় ও ফায়সাল আরেফিন দীপন ছিলেন দুই বন্ধু।

দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকপুত্র হওয়ার সুবাদে হৃদ্যতা ছিল অনেক। তার ওপর দীপন ছিলেন অভিজিৎ রায়ের আলোচিত বই 'বিশ্বাসের ভাইরাস' বইয়ের প্রকাশক।

ফয়সল আরেফিন দীপনের বাবা আবুল কাশেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায়ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের এক মাস পূর্তিতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দীপন জানিয়েছিলেন- অভিজিতের লাশ দেখতে মর্গের সামনে যাওয়ার পর মর্গের দ্বাররক্ষক সেদিন দীপনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন 'স্যার ভেতরে গিয়ে দেখবেন?'

সেদিন মর্গে গিয়ে অভিজিতের নিথর লাশ দেখেছিলেন দীপন। কিন্তু তিনি জানতেন না একদিন তাকেও মর্গে লাশ হয়ে ঢুকতে হবে।

প্রিয় বন্ধু অভিজিৎ স্মরণে ২৭ মার্চ ২০১৫ ফেসবুকে দীপন লিখেছিলেন:

একটা মাস আগে কাছাকাছি একটা সময়ে গিয়ে দাড়িয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে। গ্রিলের সামনে দাড়িয়ে দেখছিলাম প্রিয় বন্ধুর সাদা চাদরে ঢাকা নিথর দেহটা। চাবি হাতে দ্বাররক্ষক প্রশ্ন করেছিল, স্যার ভেতরে গিয়ে দেখবেন? বুকের ভেতর দুমড়ে মুচড়ে ওঠা আবেগ চাপা দিয়ে বলেছিলাম, দেখবো। তালা খুলে ভেতরে ঢুকতে দেয় আমাকে। মাথার পেছন পাশটা অনেকটা উচু হয়ে আছে ব্যান্ডেজের নিচে। একটা চোখ আধখোলা। ট্রলির নিচে জমা রক্ত। 

যে মানুষটা গল্প আড্ডায় মেতে ছিল আগের দিন আমার অফিসে, একেবারে ছোটবেলা থেকে একসাথে এক এলাকায় বেড়ে উঠেছি যার সাথে, খেলাধুলা করেছি, পড়ালেখা করেছি একই স্কুলে, যার বই প্রকাশ করেছি সানন্দে- মুক্তমতের প্রতিষ্ঠায়, সেই অভিজিৎ রায় আমাদের প্রিয় গুল্লুর চলে যাওয়ার এক মাস পূর্ণ হলো। আমার কানে শুধু বাজে আমার অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় 'সাবধানে থাকিস' বলার পর ওর উত্তরটা। 'তুই ভয় পাস না, আমাদের কিচ্ছু করতে পারবে না...'

উল্লেখ্য, শনিবার (৩১ অক্টোবর) শাহবাগে নিজ প্রকাশনা কার্যালয়ে জঙ্গি মৌলবাদীদের চাপাতির আঘাতে নৃশংস হত্যার শিকার হন জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত