২২ নভেম্বর, ২০১৫ ০৩:২৮
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়া দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মৃত্যুর পরেও ঘৃণার জুতা দেখল। কারাগার থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের স্বপক্ষে জনতা স্লোগানে স্লোগানে কাঁপিয়ে তুলে কারাগার এলাকা।
চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কারণে মূল ফটক থেকে কিছুটা দূরে সাধারণ মানুষেরা থাকলেও এ দুই যুদ্ধাপরাধীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বের হওয়ার সাথে সাথেও উপস্থিত জনতার মধ্য থেকে বেশ কয়েকজনকে সাকা-মুজাহিদের লাশকে জুতা প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
এ সময় হঠাৎই 'সাকা চৌধুরীর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে', 'মুজাহিদের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে' স্লোগানে কেঁপে ওঠে চারদিক।
মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাফটক অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে বেশ ক'জন বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের হাতে রাখা জুতা ছুড়ে মেরে এ দুই যুদ্ধাপরাধীর প্রতি নিজেদের ঘৃণার প্রকাশ ঘটান।
এর আগে এপ্রিলে অপর যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের লাশ তার এলাকা শেরপুর নিয়ে যাওয়ার পথে গাজীপুরের চৌরাস্তায় লাশবাহী গাড়িতে জুতা ছুড়ে মেরে ঘৃণা প্রদর্শন করেন স্থানীয় জনতা।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের কটূক্তি করে সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদ ব্যাপকভাবে নিন্দিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, আপিলের বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন খারিজের পর তারা একাত্তরে নিজেদের কৃত অপরাধের জন্যে স্বীকারোক্তি দিয়ে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদের কাছে। কিন্তু প্রাণভিক্ষার সে আবেদন নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি।
এরপর রবিবার (২২ নভেম্বর) রাত ১২:৫৫ মিনিটে একই সাথে একই সময়ে পাশাপাশি দুই ফাঁসির মঞ্চে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধের তৃতীয় ও চতুর্থ রায় কার্যকর। এর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা এবং এবছরের এপ্রিলে যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়।
আপনার মন্তব্য