০৮ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:২৪
স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সাংসদের নামে ১৫ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এই আইনজীবী ও যুবলীগ নেতা। তার দাবি তিনি মনোনয়ন পেতে স্থানীয় সাংসদকে এই টাকা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম হোসেন কবির সাংসদের নামে এই চেক নেন বলে অভিযোগ ওই যুবলীগ নেতার।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এ অভিযোগ করেন দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ–আইনবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রাম জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলিও।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম–৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নামের ১৫ লাখ টাকার একটি চেকের ছবিও দিয়েছেন কামাল উদ্দিন। যদিও সাংসদ বলছেন, এটা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। এরবিরুদ্ধে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সাতকানিয়ার ১৬টি ইউপিতে নির্বাচন হবে। গতকাল শুক্রবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সোনাকানিয়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন কামাল উদ্দিন।
এদিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সাংসদের পক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাতেই সাতকানিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোহরাব হোসেন চৌধুরী এই জিডি করেন। জিডিতে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়া মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাতে বলা হয়, সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম হোসেন কবিরের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির যে স্ট্যাটাস ফেসবুকে দেওয়া হয়েছে, তা মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর।
সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন কুমার দে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’
সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘এটা ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা হবে। তিনি এটা প্রতারণা করছেন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য।’
কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবেন বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম হোসেন কবিরও। তিনি বলেন, ‘থানায় সোহরাব হোসেন জিডি করেছেন। আমি রোববার একটি মানহানির মামলা করব। কামালের সঙ্গে আমার পাঁচ বছর ধরে যোগাযোগ নেই। আমার ও মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নামে এটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।’
ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে কামাল উদ্দিন ১৫ লাখ টাকার একটি চেকের ছবিও যুক্ত করে দেন। এটি সোনালী ব্যাংক কোর্ট হিল শাখার একটি চেক। তাতে পে টু–এর স্থানে লেখা মোসলেম উদ্দিন আহমেদ। নিচের অংশে কামাল উদ্দিনের সই রয়েছে। তবে চেকে কোনো তারিখ ছিল না।
স্ট্যাটাসে কামাল উদ্দিন একপর্যায়ে লেখেন, ‘আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আমি তৃণমূলের আশা–ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হব এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।’
আপনার মন্তব্য