সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ আগস্ট, ২০২৩ ১১:৪৫

১৯ বছরেও শেষ হয়নি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার

এখনো শেষ হয়নি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারকাজ। ১৯ বছর আগে ২০০৪ সালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ঘটে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। সেদিনের সেই গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হয়।

ওই নৃশংস ঘটনায় মৃত্যুর হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য এ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন নিম্ন আদালত।

রায় কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত নথি) ও আপিল আবেদন এখন হাইকোর্টে। বিচারপতি শহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর শুনানি শুরু করেন।

এখন পর্যন্ত বেঞ্চের ৮০ কার্যদিবসে শুনানি হয়েছে। সবশেষ শুনানি ২৫ জুলাই হয় বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

আপিল শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) বশির আহমেদ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'বেঞ্চে মামলার ২২৫ সাক্ষীর মধ্যে ২২৪ জনের বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়েছে।'

গত ১০ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে এ মামলার আপিলের শুনানি শেষ করতে আরও ১০-১২ কার্যদিবস লাগতে পারে।

'হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার নথির কোর্ট রিডিং চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এটি শেষ করতে আরও এক কার্যদিবস লাগতে পারে,' জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন এবং তারপর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন,' যোগ করেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন বলেন, 'নিম্ন আদালত গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অত্যন্ত সুন্দর রায় দিয়েছেন। আমরা হাইকোর্টের কাছে আবেদন করব যেন নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে।'

এ মামলায় বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, '২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার শুনানি অক্টোবরের আগে শেষ নাও হতে পারে।'

এর কারণ হিসেবে তিনি আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর ছুটিতে যাবে এবং ৮ অক্টোবর খুলবে বলে জানান।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে লন্ডনে থাকা তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক এবং ১১ জন কারাগারে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা ৬৩টি আপিল করেছেন এবং সবগুলোই হাইকোর্টে বিচারাধীন।

নিম্ন আদালতের রায়ের ডেথ রেফারেন্স ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে পৌঁছায়। ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট আপিল গ্রহণ করে। একই দিনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায়ের কিছু অংশ (জরিমানা) স্থগিত করেন।

সেদিন যা ঘটেছিল
তখনকার বিএনপি-জামায়াতের চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সারা দেশে বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কেন্দ্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবিরোধী এক শান্তি সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই দিন বিকেল চারটার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের পর শোক মিছিলের কর্মসূচি ছিল।

বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা বিকেল পাঁচটার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে উঠে বক্তৃতা শুরু করেন তিনি।

২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে শেখ হাসিনা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান উচ্চারণ করে মিছিল শুরুর ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। রাস্তার ওপর পড়ে সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।

একে একে আরও ১২টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ সময় কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ দলীয় নিরাপত্তাকর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে গাড়িতে করে সুধা সদনে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়ির ওপরও গুলিবর্ষণ করা হয়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড উদ্ধার হয়।

এ গ্রেনেড হামলায় নিহতরা হলেন আইভি রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত