ডেস্ক রিপোর্ট

১১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ২০:০৮

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড: তিন বছরেও শেষ হয়নি ৪৮ ঘণ্টার হিসাব

হত্যাকাণ্ডের তিন বছর অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করা হবে বলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিলেও এই সময়ের হিসাব শেষ হয়নি এখনও। ফলে ঝুলে আছে মামলা, আদৌ অপরাধিরা শাস্তি পাবে কীনা- এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর ফার্মগেটে পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় সারা দেশের সাংবাদিক থেকে শুরু করে পেশাজীবী সকলেই এর প্রতিবাদ গ্রেফতারের দাবি করে আসছেন।

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলে ঘোষণাও দিলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

জানা যায়, তিন বছরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ৩২ বার আদালত থেকে সময় নিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তিন বছরেও সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হয়নি। এ পর্যন্ত ১১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও শেষ হয়নি তদন্তের কাজ। তিন বছর পরেও অজানা রয়ে গেছে হত্যার কারণ।

সাংবাদিক দম্পতি হত্যার মামলার তদন্ত প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার এসআই জহুরুল ইসলাম ও পরে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রবিউল আলম করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র্যা বের কাছে স্থানান্তর করা হয়। র্যাাবের সিনিয়র এএসপি জাফর উল্লাহ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন এএসপি ওয়ারেছ আলী মিয়া। 

হত্যাকাণ্ডের আট মাস পর ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর রাজধানীর বনানী থানায় হত্যা ও ডাকাতি মামলায় আটক পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তারা হচ্ছেন নিহত দম্পতির পারিবারিক বন্ধু তানভীর রহমান এবং তাদের বাসার দারোয়ান পলাশ রুদ্র পালকে। পরে আরেক দারোয়ান এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অগ্রগতি বলতে এটুকুই। এর মধ্যে তানভীর রহমান গত ২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।

র‍্যাব সন্দেহভাজন মোট ১৬ জনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়। আলামত হিসেবে জব্দ করে ছুরি ও পোশাকের নমুনা।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যারহস্য উন্মোচনে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই বলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়।

সর্বশেষ ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাবের ইনভেস্টিগেশন এবং ফরেনসিক উইংয়ের সহকারী পরিচালক (সহকারী পুলিশ সুপার) ওয়ারেছ আলী মিয়া। এ কারণে আগামী ১ এপ্রিল পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়।

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত