নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৩০

সিলেটের সড়ক উন্নয়নে ৫৩০০ কোটি, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটেের গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ৫ হাজার ৩ শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। একইসাথে সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটিও চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এমনটা জানিয়েছেন করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও কার্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে হাঁটার জায়গা নেই। শহরের ফুসফুস তৈরির জন্য পুরাতন কারাগারকে একটি পার্কে রূপান্তরের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর পরিবেশ ও বায়ুর মানে পরিবর্তন আসবে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগের প্রতিটি উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বর্তমান সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু সিলেট জেলা নয়, পুরো সিলেট বিভাগের গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নে বড় অগ্রগতি হবে।

সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতাকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, সিলেট শহরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এই শীত থেকেই এর কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসময় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, দেশে দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে। মানুষ শহরমুখী হওয়ায় জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত ও টেকসই শহর গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সরকারের অধীনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৮০ দিনের গৃহীত পরিকল্পনা সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। জেলাভিত্তিক মাস্টার প্লান করা হচ্ছে। বিগত ১৭ বছর দেশে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি; বড় বড় মেগা প্রকল্প গ্রহণ হলেও দেশ থেকে আড়ালে অর্থ পাচার হয়েছে। বলেন, আগামী দিনে আইন লঙ্ঘন করে আর ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।

সিউকের মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়ন হবে সুদূরপ্রসারী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নই হবে এই কর্তৃপক্ষের মূল অগ্রাধিকার। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সাথে সেবা দানের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের কোনো শহরই পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেনি বরং এই সময়ে গৃহীত অনেক মেগা প্রকল্পের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যেগুলোর প্রকৃত কোনো প্রয়োজনই ছিল না। আবার অনেক প্রকল্প শেষও করা হয়নি। শুধু জনগণের অর্থের অপচয়ই হয়েছে।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ শহরমুখী হওয়ায় সীমিত জমির বিপরীতে আবাসন চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একদিকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিজমি রক্ষা, অন্যদিকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও টেকসই শহর গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

গৃহায়নমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি সিটি করপোরেশনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সিউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কোনো নাগরিক যেন তার কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ বা আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ যেন আর না থাকে।

এসময় গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, সিলেটে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি শহরে সকল দায়িত্বশীলদের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে ক্নিন-গ্রিন ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করা যায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এই সিলেট শহরকেও দেখতে চাই বাংলাদেশের মধ্যে উন্নত একটি পরিকল্পিত নগর, যেখানে সকল প্রকার খারাপ জিনিস এই শহরে থাকবে না। দলের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস, দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি থাকবে না এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিলেট শহরকেও এগিয়ে নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই যেসব শহরে সিটি করপোরেশন রয়েছে, সেসব এলাকায় পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে চেয়ারম্যান নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়াও চলছে বলে তিনি জানান।

সিলেটের মতো একটি পর্যটন-নির্ভর শহরে কেন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন ছিল, তা ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে কোনো কাজ পরিচালিত হলে তা কোনো শহরের জন্যই ভালো নয় বিশেষত সিলেটের মতো সুন্দর একটি পর্যটন শহরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষ থাকা অপরিহার্য ছিল।

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নাগরিকেরা যেন প্রকৃত অর্থে সময়মতো সেবা পান এবং কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সিলেট শহরকে একটি পরিকল্পিত, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই শহরের নতুন প্রজন্ম যেন ভবিষ্যতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে, সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

তিনি আরও জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের সব পর্যায়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দেশের শহরগুলোকে ধাপে ধাপে ক্লিন, গ্রিন ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করা।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যরা সিলেটের মানুষের আবাসন সংকট সমাধান ও প্রবাসীদের দখলকৃত ঘরবাড়ি উদ্ধারে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালেক, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত