সিলেটটুডে ডেস্ক

২৭ জুন, ২০২৫ ২২:৪৮

বায়ান্ন থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভেঙে জুলাইয়ের ভাস্কর্য করছে ডিএনসিসি

রাজধানীর বিজয় সরণিতে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভাস্কর্যের জায়গায় গড়ে তোলা হবে ‘জুলাই শহিদদের স্মরণে ভাস্কর্য ও উন্মুক্ত স্থান’।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই ভাস্কর্য নির্মাণ করবে। এটির পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি করা হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার করপোরশন ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভাস্কর্যের বাকি সাতটি দেয়াল ভেঙে ফেলেছে।

সূত্র জানায়, ডিএনসিসির বোর্ড সভায় জুলাই শহিদদের স্মরণে ভাস্কর্য ও উন্মুক্ত স্থান গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রকৌশল বিভাগ পরিকল্পনা ও নকশা প্রস্তুত করছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এজাজ মোহাম্মদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন ও স্বাধীনতাকে বিবেচনায় রেখেই ভাস্কর্য তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারীরা এই ভাস্কর্যের ওপর হামলে পড়ে। এ সময় তারা বিজয় সরণির ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে। ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্ভোধন করেছিলেন। দৃষ্টিনন্দন চত্বরে স্থাপন করা হয় ভাস্কর্যটি। এর দেয়ালে ম্যুরালও স্থান পায়।

চত্বরের সাতটি দেয়ালে ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও অবদানের নানা দিক চিত্রিত করা হয়।

এদিকে, ২৫ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সপ্তম করপোরেশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এ জুলাই শহিদদের স্মরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ এবং একটি উন্মুক্ত স্থান তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘সপ্তম করপোরেশন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি কনসেপ্ট তৈরি করা হয়েছে, তার ওপর কাজ চলছে। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়া কতটা যৌক্তিক। অনেকেই ফেসবুকে লিখছেন, ‘একটি ইতিহাস মুছে নতুন ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

কেউ কেউ আবার লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতের শহিদদের জন্য মিনার গড়া ভালো, তবে তা যেন অতীতের শহিদদের মুছে না দেয়।’

অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর পূর্বের ছবি তাদের ফেসবুক টাইমলাইন ও কাভার পিকচারে স্থান দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত