০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে মন্তব্য করে রিটটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করেছে হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম জানান, আদালত মনে করেছেন—দেশে নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ তৈরি হয়েছে; এমন অবস্থায় রিটের শুনানি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অযথা জটিল করবে। তাই রিটটি নটপ্রেস হিসেবে খারিজ করা হয়েছে।
৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব ও আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম এই রিট দাখিল করেছিলেন, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়।
এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করেছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হবে। নির্বাচন কমিশনও ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা করানো সংবিধানবিরোধী—কারণ কমিশনের স্বাধীনতা বজায় রাখতে নিজস্ব জনবল থাকা উচিত। রিটে আরও দাবি করা হয়, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়াও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।
আবেদনে ইসি সচিব নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন চাওয়া হয়—নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে নিজস্ব পদোন্নতি পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সচিব নিয়োগ দেওয়ার দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি ‘ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন’ নামক পৃথক কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও ছিল রিটে।
রিটকারী আইনজীবীর মতে, ডিসিদের নির্বাচন পরিচালনার ইঙ্গিত ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে, যা আরেকটি প্রভাবিত নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার দাবি—নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা এবং ইসি সচিবের অপসারণ জরুরি।
হাইকোর্টের আদেশে সেই প্রস্তাব শোনার দরজা আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
আপনার মন্তব্য