০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:০৭
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশে বিভাজন ও সহিংসতার রাজনীতি উসকে দিচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি এ অভিযোগ করে। এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।
এনসিপি জানায়, ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স (এনপিএ) যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো নিয়ে যে মন্তব্য করেন, তা সম্পূর্ণ প্রমাণনির্ভর ও দায়িত্বশীল। তারা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে, পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার তুষার মণ্ডল যে জামায়াতের কর্মী, তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এমন বাস্তবতা থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের পক্ষ থেকে সত্য অস্বীকার করাকে ‘দায় এড়ানোর অপচেষ্টা’ বলেছে এনসিপি।
দলটি মনে করছে, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পরও জামায়াত পুরোনো সহিংস ও আধিপত্যবাদী চর্চা থেকে বের হতে চাইছে না; বরং ‘নতুন খেলোয়াড়’ হিসেবে আবারও সহিংসতার রাজনীতিকে সামনে আনতে চাইছে, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি, ধর্মের অপব্যবহার এবং সহিংসতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা কোনোভাবেই সভ্য রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। এনসিপি জামায়াতকে সত্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।
এর আগে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন—তপশিল ঘোষণার আগেই বিএনপি-জামায়াতসহ কিছু দল অস্ত্রের প্রদর্শনীতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই বক্তব্যকে ‘অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত দাবি করে, এমন মন্তব্য রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার পরিপন্থি এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।
আপনার মন্তব্য