০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:০৬
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল হলেও আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না—এমনটাই জানাচ্ছেন তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। তাঁদের ভাষায়, “একটি জটিলতা কমলেই আরেকটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে”—যা চিকিৎসার অগ্রগতি শ্ল করে দিচ্ছে।
২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়ার বয়সজনিত সমস্যা ও একাধিক পুরোনো রোগ চিকিৎসকদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ২৭ নভেম্বর তাঁকে নেওয়া হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)।
সোমবার সন্ধ্যায় বোর্ডের এক চিকিৎসক বলেন, ‘ম্যাডামের উন্নতি আছে, তবে আহামরি বলা যাবে না। লিভার জটিলতা আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিডনির সমস্যা আরও শঙ্কাজনক। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই স্বাভাবিক সীমানার ওপরে। ডায়ালাইসিস বন্ধ করলেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যায়, তাই নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া বিকল্প নেই। চিকিৎসকদের মতে, বয়স এখানে বড় প্রতিবন্ধক।
সিসিইউতে নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত বিভিন্ন প্যারামিটার পরীক্ষা করা হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি। প্রতিদিন রাতে বৈঠক করে দেশি–বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল মেডিকেল বোর্ড।
দেশে ফেরার পর খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে প্রায় সারাদিন থাকছেন তাঁর পুত্রবধূ চিকিৎসক ডা. জোবাইদা রহমান। তিনি চিকিৎসা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্বও দিচ্ছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছেন। গুলশানের বাসা থেকে তাঁর খাদ্যতালিকাও প্রতিদিন পাঠানো হচ্ছে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী।
লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অপারেটর সেই স্লট বাতিল করেছে। এতে পঞ্চমবারের মতো পিছিয়ে গেল তাঁর সম্ভাব্য বিদেশযাত্রা।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর; চিকিৎসকরা ‘যখন উপযোগী মনে করবেন’, তখনই যাবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
আপনার মন্তব্য