১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:২৯
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে আজ বা আগামীকালের মধ্যেই উপদেষ্টা পদ ছাড়তে পারেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আপাতত সরকারেই থাকার সিদ্ধান্তে অনড়— তিনি নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার ও যুব–ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ ইতোমধ্যে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হয়েছেন এবং আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। তপশিল ঘোষণার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এনসিপি সূত্র। দলটির সঙ্গে বিএনপির জোট হলে তিনি এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন, নতুবা সরাসরি বিএনপিতেও যেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাসভবনে সোমবার রাতভর বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে—তিনি এখনই নির্বাচনে যাচ্ছেন না, বরং সরকারেই থাকবেন। এনসিপির জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট সমঝোতার বিরোধী হওয়ায় তিনি প্রার্থী হতে অনিচ্ছুক। তাঁর লক্ষ্মীপুর-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার আলোচনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এনসিপি ইতোমধ্যে এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করেছে। তবে আসিফ মাহমুদের অনুসারীরা এই জোটের বিরোধিতা করে বিএনপির সঙ্গে সরাসরি জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলটি শিগ্গিরই ১০০টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করতে পারে, যদিও সেখানে আসিফের নাম নেই—তিনি দলভুক্ত না হওয়ায় তালিকায় রাখা হয়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই তিন ছাত্রনেতা—নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম—অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য অংশ হলেও এখন রাজনীতিতে তাঁদের অবস্থান আলাদা পথে যাচ্ছে। নাহিদ ইসলাম আগেই সরকার থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির দায়িত্ব নেন। বিএনপি কখনো তাঁদের পদত্যাগ দাবি করলেও পরে সেই অবস্থান নরম হয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, উপদেষ্টারা নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না এবং প্রার্থীও হতে পারবেন না—এ ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে উপদেষ্টাদের তপশিল ঘোষণার আগে নাকি মনোনয়ন দাখিলের আগেই পদত্যাগ করতে হবে—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
আপনার মন্তব্য