২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১৪
ছবি: সংগৃহীত
দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি যশোরে। সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন মানুষ আত্মহত্যা করছেন। এর মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
গতকাল সোমবার রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ক্রাইম) মো. আশরাফুল ইসলাম এ তথ্যের তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা (খসড়া) আলোচনার জন্য ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আয়োজন করেন যৌথভাবে আইসিডিডিআরবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশে ৪ হাজার ৭১৪টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। অন্যদিকে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ক্রাইম) মো. আশরাফুল ইসলাম, ওই বছর পুলিশের খাতায় আত্মহত্যার ঘটনা ১৫ হাজার ৫০টি নথিবদ্ধ হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমিত সংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রকৃত সংখ্যা তিন গুণ বেশি। আত্মহত্যা বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যই সাধারণত জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা ব্যবহার করেন। পুলিশের বিবরণীতে ফাঁস, বিষপান, গায়ে আগুন, রেললাইনে ঝাঁপ ও অন্যান্য ভাবে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা। এরপরের পদ্ধতি বিষপান।
অনুষ্ঠানে একাধিক আলোচক বলেন, আত্মহত্যার প্রতিরোধে দেশে কাজ কম হচ্ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধ একক কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য, কৃষি, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, ধর্ম, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ যৌথ ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে একাধিক আলোচক বলেন,আত্মহত্যার মূলত মানসিক বিপর্যয়ের কারণেই ঘঠে। কিন্তু আত্মহত্যাকে আইনে অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে ,যার সাজাও আছে। যিনি আত্মহত্যা করেন, তাঁর সাজা ভোগ করার সুযোগ নেই। কিন্তু যিনি আত্মহত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন, তখন তিনি আইনের চোখে অপরাধী, তাঁকে শাস্তি ভোগ করতে হয়। ফলে সম্মান রক্ষা ও শাস্তির ভয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনাগুলো চেপে যান অনেকেই। তাই এআত্মহত্যা বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন।
আপনার মন্তব্য