সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:১২

বৃহস্পতিবারও অবরোধের ঘোষণা দিয়ে ৩ সড়ক ছাড়লেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ব্রিফিং শেষে তারা সেখান থেকে সরে যান এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ওই মোড় দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দিনের শুরু থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবরোধের কারণে তীব্র যানজট দেখা দেয়। দুপুর ১২টা থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাঁতিবাজার মোড়, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় এবং তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালীর আমতলী মোড় অবরোধ করেন। দুপুর ১টার পর ঢাকা, ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন সায়েন্স ল্যাব মোড়ে।

দুপুর ৩টার পর তাঁতিবাজার, টেকনিক্যাল এবং আমতলী এলাকার অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব এলাকায় অবস্থান ধরে রেখে দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাতে থাকেন।

সন্ধ্যার ব্রিফিংয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নাঈম হাওলাদার বলেন, জানুয়ারির শুরুতে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। তখন জানানো হয়েছিল ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আমাদের কাঙ্ক্ষিত অধ্যাদেশ পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি—এ কারণে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি আরও জানান, সরকার কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালু থাকবে। বৃহস্পতিবার সায়েন্স ল্যাব, তাঁতিবাজার ও টেকনিক্যাল—এই তিন স্থানে আবারও ব্লকেড হবে।

এ কর্মসূচি ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় ত্যাগ করেন।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সরকারকে জানুয়ারির প্রথম দিকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন’ জারি করতে আহ্বান জানিয়েছিল।

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর খসড়া আকারে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রস্তাব প্রকাশিত হয়। এতে সাত কলেজকে চারটি স্কুলে পুনর্গঠন করে ‘স্কুলিং’ ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব থাকে এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরও বহাল রাখা হয়।

এ কাঠামোর বিরোধিতা করছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, এই মডেলে কলেজের বর্তমান কাঠামো ও তাদের পদোন্নতির অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ‘অধিভুক্তমূলক’ কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। শিক্ষার্থীদেরও দুই পক্ষ এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে—এক অংশ দ্রুত অধ্যাদেশ জারির পক্ষে, অন্য অংশ কাঠামো সংশোধনের দাবি তুলছে।

এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি সংশোধন করে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে। বিভাগের ভাষ্যমতে, মন্ত্রিপরিষদ ও লেজিসলেটিভ বিভাগে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা হয়েছে এবং উচ্চশিক্ষার নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্ব ও সহনশীলতা প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত