১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৪৪
জামায়াত নেতৃত্বাধিন ১১ দলীয় (আদতে ১০ দলীয়) জোটের সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে খেলাফত মজলিস নেতা শাহীনূর পাশা চৌধুরীকে।
শাহীনূর পাশা সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ। তবে ২০১৮ সেলে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে ‘তৃণমূল বিএনপি’ থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জামায়াত নেতৃত্বাধিন জোটের প্রার্থী ঘোষণা রো হয়। এতে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে শাহীনূর পাশার নাম রয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহীনূর পাশা চৌধুরী গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তৃণমূল বিএনপি ছেড়ে খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ওই দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। এর আগে তিনি প্রায় তিন দশক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই দলে তার সর্বশেষ পদ ছিল কেন্দ্রীয় সহসভাপতি।
শাহীনূর পাশা চৌধুরী গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এর আগে ২০০১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। একবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হলে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শাহীনূর পাশা চৌধুরী। সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের আরও কয়েকজন নেতা ছিলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর দিন দলীয় পদ স্থগিত করে তার দল। ওই দিনই জমিয়ত থেকে পদত্যাগ করে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ‘নিশ্চিত পাস’ ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারান তিনি। তবে ২০০৫ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে শাহীনূর পাশা চৌধুরী চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নিজের প্রার্থীতা চূড়ান্ত হওয়ার পর খবর নিশ্চিত করে শাহীনূর পাশা চৌধুরী এজন্য শোকরিয়া আদায় করেন এবং নিজের দল ও জোট নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আপনার মন্তব্য