২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১৬:৩৮
বরিশালে আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার দুপুরে আদালত চত্বর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনার পর আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে তাঁর চেয়ার থেকে তুলে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক করার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি বলেন, সমিতির সভাপতিকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর আদালত চত্বরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় আইনজীবীদের ‘সভাপতিকে মুক্তি দিতে হবে, দিয়ে দাও’, ‘অবৈধ গ্রেপ্তার, মানি না মানব না’, ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই কর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন আইনজীবী। তাঁরা এজলাসে ঢুকে বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করার পাশাপাশি কাগজপত্র তছনছ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি করছেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) ও আদালত পুলিশের তিন কনস্টেবল উপস্থিত আছেন। শুনানি করছিলেন দুই আইনজীবী। এর মধ্যে দরজা খুলে চিৎকার করতে করতে এজলাস কক্ষে ঢোকেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান। তাঁর পেছনে আরও কয়েকজন আইনজীবী কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা এজলাসে বসার বেঞ্চগুলো হাত–পা দিয়ে ধাক্কা দিতে থাকেন এবং কাগজপত্র ছুড়তে থাকেন। সাদিকুর রহমান বিচারকের সামনে গিয়ে চিৎকার করে আঙুল তুলে কথা বলেন। তিনি বিচারকের সামনে থাকা একটি বেঞ্চে আঘাত করেন এবং বিচারকের উদ্দেশে কিছু বলতে থাকেন। পরে তাঁরা এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।
এর আগে দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুর করার প্রতিবাদে চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাঁরা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পান। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল–৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি পান। জামিন পাওয়া অন্য দুজন হলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।
আপনার মন্তব্য