০৩ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০৭
ছবি: হাই কোর্ট
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
মঙ্গলবার এ রুল জারি করে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের হাই কোর্ট বেঞ্চ। এর আগে এ রিট মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব।
অন্যদিকে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ শিশির মনির রিটের বিরোধিতা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার দুটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান–ই–খোদা রনি ও অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম।
দুটি রিট আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি করার পর মঙ্গলবার এ বিষয়ে রুল জারি করল আদালত।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশে সংবিধান সংস্কারের কোনো সুযোগ নেই। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসদে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
অন্যদিকে রিটের বিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ অসাংবিধানিক হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়।
এরপর গতবছর ১৩ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সময় দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয়। আর গণভোট আয়োজনে জারি করা হয় গণভোট অধ্যাদেশ।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে এই আদেশ জারির পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ীদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। সেজন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর বর্তানোর কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিতরা ১৭ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে শুরুতেই জটিলতা দেখা দেয়।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন আহমদ সেদিন শপথ ফর্ম তুলে ধরে বলেছিলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এটা এখনও ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই।”
বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথ না নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিতরা প্রথমে শপথ নিতে না চাইলেও পরে দুই শপথই নেন। বিএনপির ভূমিকার জন্য তারা কঠোর সমালোচনা করেন।
আপনার মন্তব্য