নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ মার্চ, ২০২৬ ২১:১৯

এমপি হাজী মুজিবের মার্কেটে ‘মব সৃষ্টি করে’ ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১২

রাজধানীর উত্তরায় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজী মুজিবের মালিকানাধীন মার্কেটে ভাঙচুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে বিপণিবিতানে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার এ মামলা দায়ের ও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরআগে রোববার রাত ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মল নামে ওই মার্কেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কথা–কাটাকাটির জেরে ওই বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা এক রিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে রিকশাচালকেরা এ ভাঙচুর চালান।

তবে এমপি মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) দাবি করেছেন, মব সৃষ্টি করে মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

তার অভিযোগ, গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর ও বিভিন্ন দোকানের মালামাল লুট করা হয়েছে। এতে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, একটি বিপণিবিতানের সামনে রিকশা দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকদের মধ্যে গতকাল রাতে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একজন রিকশাচালকের সঙ্গে বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীদের কথা–কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রিকশাচালক চলে যান।

ওসি বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। বিপণিবিতানের মালিকেরা আরেকটি মামলা করবেন। এখনো সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

ক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের অভিযোগ, বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে এক রিকশাচালককে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে ওই রিকশাচালকের পরিচয় কেউ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।

এ ঘটনার সোমবার সিলেটটুডেকে মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, এক রিকশাচালকের সাথে মার্কেটের সিকিউরিটি সদস্যের বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এই ঘটনার পর তারা অনেক লোক নিয়ে এসে মার্কেটে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। আমরা তখন পুলিশ ডাকলে পুলিশ এসে তাদের ৪/৫ জনকে আটক করে। এরপরই তারা গুজব ছড়ায় মার্কেটের ভেতরে এক রিকশাচালককে হত্যা করা হয়েছে। তখন পুলিশ-সেনাবাহিনী তাদের নিয়ে মার্কেটে তল্লাশী চালিয়েও হত্যার কোন আলামত পায়নি।

মুজিবুর বলেন, এরপর মব সৃষ্টি করে ৪/৫ শ' লোক নিয়ে মার্কেটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। কয়েকটি দোকানে ছিনতাই করা হয়েছে। এতে রিকশা চালকদের সাথে আশপাশের ছিনতাইকারীরাও অংশ নেয়।

তিনি বলেন, ভাঙচুরকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পুলিশ তাদের ঠেকাতে পারেনি। পরে সেনাবাহিনী এসে থামিয়েছে। সেমবারও আবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত