১৫ মে, ২০২৬ ১১:৪৭
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আইনজীবীদের অংশগ্রহণ বাধা, মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া এবং শারীরিক হয়রানির অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের সলিসিটরদের পেশাদার সংগঠন ‘দ্য ল সোসাইটি’।
গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক পত্রে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মার্ক ইভান্স।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী এবং স্বতন্ত্র আইনজীবীরা ব্যাপকভাবে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন । অভিযোগ রয়েছে যে, অনেককে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে জেলা ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে প্রার্থীদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
দ্য ল সোসাইটি তাদের পত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, কিছু ক্ষেত্রে ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে । এছাড়া পুলিশের হস্তক্ষেপের বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রার্থীদের ওপর নাম প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে অথবা পূর্ববর্তী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে না।
সংগঠনটি তাদের পত্রে দাবি করেছে যে, এসব কর্মকাণ্ড জাতিসংঘের ‘রোল অব লয়ার্স’ সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ এবং ২৩ নম্বর নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী ।
নীতি ১৬: সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আইনজীবীরা কোনো প্রকার ভীতি প্রদর্শন, বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
নীতি ১৭: আইনজীবীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাষ্ট্রকে সুরক্ষা দিতে হবে। অথচ অভিযোগ উঠেছে যে, সুরক্ষা দেওয়ার বদলে পুলিশ নিজেই প্রার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
নীতি ১৮: কোনো আইনজীবীকে তার মক্কেলের পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বিচার করা যাবে না। ‘সহযোগী’ তকমা দিয়ে আইনজীবীদের চিহ্নিত করা এই নীতির বিরোধী।
নীতি ২৩: অন্য নাগরিকদের মতো আইনজীবীদেরও মতপ্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা রয়েছে, যার অংশ হিসেবে তারা পেশাদার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রাখেন।
চিঠির শেষে ল সোসাইটি বাংলাদেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে তিনটি বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে: বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনগুলো এমনভাবে সম্পন্ন করা যেন কোনো বৈষম্য ছাড়াই সব আইনজীবী সমানভাবে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা পান; নির্বাচনের সময় ঘটা অনিয়ম, বাধা প্রদান ও শারীরিক সহিংসতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা; এবং কোনো প্রকার প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই আইনজীবীরা যেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করা ।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের ২ লাখেরও বেশি সলিসিটরের প্রতিনিধিত্ব করা ‘দ্য ল সোসাইটি’ বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনজীবীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে থাকে।
আপনার মন্তব্য