১৬ মে, ২০২৬ ০০:০৪
২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে, ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ৪ নম্বর ধারা—অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রান্তিককরণ ধারা। এ ধারার আলোকে 'জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট' (জিসোমিয়া) এবং 'অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট' (আকসা) স্বাক্ষরের জন্য বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যক্তিগত চিঠিতে তিনি জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি সম্পন্নের জন্য পরামর্শ দেন।
আকসা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি সংগ্রহ এবং রসদ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম এবং মাতারবাড়ীর কৌশলগত কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে জিসোমিয়া চুক্তির সাথে একত্রে (যা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সুবিধা দেয়) এটি যুক্তরাষ্ট্রকে বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ অঞ্চল এবং চীন থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার জ্বালানি করিডোর বা রুটগুলোতে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে।
ইউক্রেনভিত্তিক সামরিক সংবাদ মাধ্যম 'মিটিলাটিরিনি' 'মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য বন্দর খুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ' শিরোনামের এক সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যা দেশটির বন্দর এবং বিমানঘাঁটি অবকাঠামোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রবেশের সুযোগ দেবে। বিশ্লেষণধর্মী কেন্দ্র সলিড ইনফো-এর একটি নতুন নিবন্ধে এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৫-৭ মে ঢাকা সফরকালে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক চলাকালীন পক্ষগুলো ইতিপূর্বে স্বাক্ষরিত 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড' (এআরটি) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে পরবর্তী অর্থনৈতিক পছন্দ বা সুবিধাগুলোকে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করার সাথে যুক্ত করেছেন: 'জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট' (জিসোমিয়া) এবং 'অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট' (আকসা)।
বাংলাদেশের জন্য পেন্টাগনের কাছে বন্দর উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো পোশাক খাতে ১৯ শতাংশ শুল্ক সুবিধা বজায় রাখা এবং শুল্কমুক্ত ব্যবস্থা পাওয়ার মূল্য, যা সংকটের সময় দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সাথে, এই পদক্ষেপটি ঢাকার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করবে, কারণ দেশটি দীর্ঘকাল ধরে বন্দর অবকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করেছে এবং তাদের অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ চীন থেকে সংগ্রহ করে থাকে।
চীনের জন্য এটা 'মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে চলার ভূমি কৌশলকে' ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বঙ্গোপসাগরের বহির্গমন পথে মার্কিন নজরদারি বৃদ্ধির কারণে চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (সিএমইসি) এবং কিয়াকপিউ বন্দরে তেল পাইপলাইনে বেইজিংয়ের শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ 'নিরাপদ পশ্চাৎভূমি' হিসেবে তার গুরুত্ব হারাবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের চুক্তির পথ ধরে জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য বাংলাদেশের বন্দর খোলা বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মন্তব্য