১০ জুন, ২০২৬ ১৮:২৩
বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনতে পারলে বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, এটার ফলে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বিনিয়োগ করবেন দেশে, এর বাইরেও মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য জহরত আদীব চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগে একটি বিষয় ছিল—তার লভ্যাংশ নিতে না পারলে কেন এখানে বিনিয়োগ করবে? এ সমস্যাটা আইনের মাধ্যমে সমাধান করেছি। তিন-চার দিন আগে হওয়া মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—বিদেশ থেকে যদি কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিদেশি বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে তাঁদের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেব, প্রণোদনা তাঁদের দেব।’
বিএনপির সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য বিনিয়োগপ্রক্রিয়া সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধনপ্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে দ্রুততর সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমান জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬- ২৯ হালনাগাদকরণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাধা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমদানি সহজীকরণের লক্ষ্যে মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি সহজ করা হচ্ছে এবং সব আমদানিকারকের জন্য মূল্যসীমা-নির্বিশেষ L/C ছাড়া চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হচ্ছে।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের কার্যোপদেষ্টা বৈঠকে কিছু কিছু বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ঈদের আগে দেওয়া বরাদ্দ পাননি বলে বিরোধী দলীয় নেতা আমাকে জানিয়েছিলেন। যেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমি বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, যে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কেউ না পেয়ে থাকলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি বর্তমান সরকার দেশের সম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তাদের এলাকায়ও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।
আনিসুর রহমান তাঁর প্রশ্নে রাজপথে বিরোধী দলের ‘অপপ্রচার’ বন্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের প্রশ্নটি সঠিকভাবে বোধগম্য হয়নি। সঠিকভাবে বোধ্যগম্য হয়নি উনি কি বোঝাতে চেয়েছেন।’
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় সদস্য আনিসুর রহমান জানতে চাচ্ছেন যে–এসব উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরেও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব প্রচারণা হয়, তা বন্ধ হবে কি না? এ ব্যাপারে হুইপদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন কি না? আমার মনে হয় আরও অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ সবে মাত্র শুরু হলো!
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সরকার। এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার। যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে তা গ্রহণ করব এবং সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে কোনো আসন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, তার ভিত্তিতে তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে। নারী সংসদ সদস্যদেরও একই রকমভাবে হক আছে। স্বাভাবিকভাবেই যেটি নিয়ম আছে, সরকারের সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার কোনো উন্নয়নের বিষয় যদি থাকে, সেখানে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন। আমি সরাসরি আপনাকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।
বিএনপির সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত দলীয় এমপি সাবিকুন্নাহার মুন্নীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য