সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ আগস্ট, ২০২৬ ০০:১২

আবারও গ্যাস সংকট, বন্ধ মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সরবরাহ

প্রতীকী ছবি

মাত্র কয়েকদিনের স্বস্তির পর আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে দেশ। মহেশখালীর মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকাল ৩টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে দৈনিক ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন এলএনজি কার্গো না পৌঁছানো এবং মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টানা ২৫ দিনের সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল। তবে নতুন কার্গো না আসায় এক্সিলারেট পুরোনো মজুত থেকে সীমিত সরবরাহ অব্যাহত রাখে। সোমবার থেকে সরবরাহ কমতে শুরু করে এবং বুধবার বিকালে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম তদারকি করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও গ্যাস সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক স্পট বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কেনার লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয়-পদ্ধতিতে কয়েকটি কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে অন্তত চারটি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। ফলে আমদানি পরিকল্পনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত শেষে গত শনিবার এটি আবার সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বুধবার বিকেলে টার্মিনালটির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে খালাস করা হতে পারে। অন্যদিকে এক্সিলারেটের জন্য নির্ধারিত কার্গো ২৩ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে আসতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন দেশকে সীমিত সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হবে।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সংকট মোকাবিলায় সাধারণত ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের লক্ষ্য ধরা হয়, যার মধ্যে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। কিন্তু এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি থেকে সরবরাহ কমে গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বুধবার এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর তা কমে ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে পড়তে শুরু করেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত