২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩০
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচির পরিচালক ও বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাসেল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানান তিনি।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মানিক পশারীর স্বাভাবিক দাফন ও তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় কারা বাধা দিয়েছেন, তাদের শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।
সামিয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একজন মুসলিমের দাফন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ঘটনা সেই অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সামিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ঘটনাবলির কথা বলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা করা উচিত নয়। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ না করে ২০২৪ সালের চেতনাকেও ধারণ করা সম্ভব নয়।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন সামিয়া।
ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আদর্শের ওপর আঘাত এলে আরও বেশি মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য