নিউজ ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ১৯:২৯

নাশকতার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হবে: মন্ত্রী

চলমান নাশকতার ঘটনায় সারা দেশে অসংখ্য মামলা হলেও এর বেশিরভাগের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি বলে আনিসুল হক জানান।

হাই কোর্ট ‘হরতাল ও অবরোধের নামে নৈরাজ্য রোধে’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার তিন দিন পর বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

‘এন্টি টেরোরিজম স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠন হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রচলিত আইনেই দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ এ ধরনের অপরাধীদের বিচার করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রত্যেক দায়রা জজের কাছে পত্র দিয়েছি যে একজন অতিরিক্ত দায়রা জজ যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার (নাশকতার ঘটনায়) বিচার করেন।”

চলতি মাসের শুরুর দিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছিলেন সরকার হরতাল-অবরোধের নামে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন করার কথা ভাবছে।

এরপর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হরতাল ও অবরোধের নামে নৈরাজ্য বন্ধের ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

মাঝে মাঝে ডাকা ‘জবরদস্তিমূলক বাস্তবায়িত’ হরতাল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করে আদালত।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালে গত দেড় মাস ধরে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও যানবাহনে আগুন দেওয়া বা পেট্রোল বোমা ছোড়ার ঘটনা ঘটছে।

সরকারি হিসাবে গত ৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পেট্রোল বোমা ও ককটেল হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৫ জন।

এ সময় ৬৬৪টি যানবাহন পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ৪১০টি যানবাহন ভাংচুর করেছে অবরোধ সমর্থকরা।

 

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি 

 

তিনি বলেন, যেগুলোর তদন্ত শেষ হয়েছে সেগুলো আদালতে গেলেই বিচারকাজ শুরু হবে।

হরতাল-অবরোধে ব্যবসা-বাণিজ্যের ‘অপূরণীয়’ ক্ষতির কথা জানিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আইন করে এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও এ দাবিকে সমর্থন দিয়েছেন। 

সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য  সংযমী হওয়ার আহ্বান জানালেও বিএনপি কর্মসুচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত