সিলেটটুডে ডেস্ক

০৬ মার্চ, ২০১৬ ১৩:১৪

প্রধান বিচারপতি নিয়ে মন্তব্য : ২ মন্ত্রীর সমালোচনায় অ্যাটর্নি জেনারেল

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ  যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের চূড়ান্ত রায় নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধ মামলা পরিচালনা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

একই সঙ্গে তিনি প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে দেওয়া খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, বিচার বিভাগ নিয়ে তার (খাদ্যমন্ত্রী) ওই উক্তি অসাংবিধানিক।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি কোনো ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠান। প্রধান বিচারপতিকে বিতর্কিত করা মানে বিচারব্যবস্থাকে বিতর্কিত করা। তাই প্রধান বিচারপতি ও বিচারালয় নিয়ে বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

রোববার (৬ মার্চ) দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তার এ আশঙ্কার কথা জানান।

তিনি বলেছেন, ‘দুই মন্ত্রী প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাতে যুদ্ধাপরাধ মামলা পরিচালনা ব্যাহত হবে।’ বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয় বলেও মনে করেন তিনি।

মীর কাসেমের মামলার রায় কী হয়, তা দেখতে সবাইকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রের এ প্রধান আইন কর্মকর্তা।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মীর কাসেমের মামলার বিচারকাজে তদন্ত সংস্থার ‘গাফিলতি’র কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং তদন্ত সংস্থা যে গাফিলতি করেছে এজন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।’

প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্যের পর আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতি থাকলে খতিয়ে দেখা হবে।’

শনিবার (৫ মার্চ) রাজধানীতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধান বিচারপতি প্রকাশ্যে আদালতে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে মীর কাশেমের ফাঁসি বহাল থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মীর কাশেমের আর ফাঁসি বহাল রাখার সুযোগ নেই। হয় তাকে খালাস দেওয়া হবে অথবা শাস্তি কমিয়ে দেওয়া হবে। জামায়াত-শিবিরের আন্তর্জাতিক লবিস্টরা যে সুরে কথা বলছে একই সুরে কথা বলছেন প্রধান বিচারপতি। তাদের অভিযোগগুলোর সত্যতা দিয়েছেন তিনি।

কামরুল বলেন, প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে বেঞ্চ পুণর্গঠন করে পুনরায় আপিলের শুনানির দাবি জানাই।

কামরুল বলেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, প্রসিকিউশন নিয়ে এমন মন্তব্যের পর তাঁর আর প্রধান বিচারপতির পদে আসীন থাকা অনুচিত।

সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের একদিন পর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম এতে যুদ্ধাপরাধ মামলা পরিচালনা ব্যাহত হওয়ার কথা জানালেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত