ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ২৩:৩৩

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড: প্রকাশকদের ১০ মিনিটের স্টলবন্ধ প্রতিবাদ

বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে একুশের বইমেলায় স্টল বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বেশ কজন প্রকাশক, তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কয়েকজন লেখক এবং পাঠকও।

শ্রাবণ প্রকাশনীর সামনে শনিবার বিকাল ৪টা থেকে ১০ মিনিটের এই অবস্থান কর্মসূচি হয়। এর বাইরে শুদ্ধস্বরের সামনে বেশ কয়েকজন লেখক-পাঠক নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছেন প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল।

‘মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রকাশকবৃন্দ’ ব্যানারে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিসহ অধিকাংশ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানই। ছিল না মাইকের কোন ঘোষণাও। প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে মাইকে ঘোষণা দিয়ে যথারীতি চলেছে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান এবং বাংলা একাডেমির ঘোষণা মাইকের দিনের স্বাভাবিক কর্মসূচিগুলো।

লেখালেখির কারণে বাংলাদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীর হুমকির মুখে থাকা অভিজিৎ এবারের মেলায় তার দুটি বই প্রকাশ উপলক্ষে দেশে ফিরেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎকে। সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী এই লেখক হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়ের মধ্যে বইমেলার শেষ দিনে প্রকাশকরাও প্রতিবাদে শামিল হলেন।

‘ধর্মান্ধদের কাছে মাথা নত করি নাই, কলম বেচি নাই’, ‘লেখক অভিজিৎ রায়ের খুনিদের বিচার কর’; ‘মৌলবাদের ভয়ে প্রকাশনা বন্ধ করব না’ ইত্যাদি প্লাকার্ড ছিল এই কর্মসূচিতে।

শ্রাবণের পাশাপাশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতি, পড়ুয়া, নান্দনিক, অনুপ্রাণন প্রকাশন তাদের স্টল বন্ধ করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

শ্রাবণের মালিক রবিন আহসান জানান- বাংলা একাডেমির উদ্যোগহীনতা দেখে তারা নিজেরা এই কর্মসূচি পালন করেন। তিনি আরও যোগ করেন- অভিজিৎ রায় একজন তরুণ লেখক। অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন লেখক ছিলেন। এ ধরনের একজন লেখক যেভাবে লেখালেখি করছিলেন, তিনি আরেকজন হুমায়ুন আজাদ হতে পারতেন। এ রকম একজন লেখক মৃত্যুবরণ করলেন, অথচ বাংলা একাডেমির কোনো কর্মসূচি নাই। এটা দুঃখজনক।

কর্মসূচিতে বাংলা একাডেমির সাড়া না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন- “একুশে বইমেলা বইবেচার মেলা নয়। এর সঙ্গে আমাদের ভাষা আন্দোলন-আত্মত্যাগ জড়িত। সেই মেলা একজন লেখকের মৃত্যুতে আধা ঘণ্টাও বন্ধ থাকবে না, এটা হতে পারে না।

 

 

 

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত